সারা দেশ রংপুর > নীলফামারী > সৈয়দপুর

সৈয়দপুরে বিসিক গোডাউন থেকে নিষিদ্ধ বালাইনাশক উধাও, তদন্ত শুরু

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি ১১ আগস্ট, ২০২৬ এ ১১:০৩ PM ২০২০১১ আগস্ট, ২০২৬
শেয়ার:
সৈয়দপুরে বিসিক গোডাউন থেকে নিষিদ্ধ বালাইনাশক উধাও, তদন্ত শুরু

সৈয়দপুর বিসিকের সিলগালাকৃত গোডাউন থেকে উধাও প্রায় ২ কোটি টাকার ৯৯ মেট্রিক টন নিষিদ্ধ বালাইনাশক! ঘটনা খতিয়ে দেখতে বিসিকের ৩ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দলের পরিদর্শন, সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন বিসিকের তদন্ত দল। ছবি: হক কথা

নীলফামারীর সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীর একটি সিলগালাকৃত গোডাউনে থাকা প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের ৯৯ মেট্রিক টন নিষিদ্ধ বালাইনাশক উধাওয়ের ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তিন সদস্যের একটি তদন্ত দল ওই গোডাউনসহ আশপাশের কয়েকটি গোডাউন ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।

বিসিকের পরিচালক (পরিকল্পনা ও গবেষণা) মোহাম্মদ আরিফুল হকের নেতৃত্বে তদন্ত দলে আরও ছিলেন বিসিকের মহাব্যবস্থাপক মো. ফরহাদ হোসেন ও সারোয়ার হোসেন।

জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৫ জুন সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীর একটি গোডাউনে থাকা ২০২৩ সালে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত এসিআই কোম্পানির বিফার ৫ জি বালাইনাশক গোপনে অন্যত্র সরিয়ে ফেলার সময় প্রশাসন অভিযান চালায়। এ সময় ট্রাকে লোড করা এবং গোডাউনে সংরক্ষিত ১ কেজি ও ২ কেজি ওজনের প্যাকেটে মোট ৯৯ মেট্রিক টন কীটনাশক জব্দ করা হয় এবং গোডাউনটি সিলগালা করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ, র‌্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে নেতৃত্ব দেন সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলাম। এতে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক শাহিনা বেগম, সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণসহ র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরা। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এসিআই কোম্পানির সৈয়দপুর উপজেলা ডিলার মেসার্স মনোয়ার ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মনোয়ার হোসেন সরকারকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার বাদী হন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণ। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

এদিকে আদালতের নির্দেশে গত ২৯ জুলাই নীলফামারীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব হাসান সৈয়দপুরে বিসিকের সিলগালাকৃত গোডাউনে রক্ষিত নিষিদ্ধ কীটনাশক ধ্বংস করতে আসেন। তিনি বিসিক শিল্পনগরী কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে গোডাউনে প্রবেশ করে দেখেন সেখানে কোনো কীটনাশক নেই, শুধু ১ কেজি ওজনের ছেঁড়াফাটা ১২৩টি প্যাকেট মেঝেতে পড়ে আছে। আদালতের হিসাব অনুযায়ী উল্লিখিত পরিমাণ কীটনাশক না পাওয়ায় ধ্বংস কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়নি। মেঝেতে পড়ে থাকা প্যাকেটগুলো বিসিক শিল্পনগরী কর্মকর্তা মশিউর রহমানের জিম্মায় রেখে গোডাউন পুনরায় তালাবদ্ধ করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ উপস্থিত অন্যরা জানান, বিষয়টি আদালতকে অবহিত করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক, অনলাইন পোর্টাল এবং টিভি চ্যানেলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত দল আজ মঙ্গলবার সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীতে তদন্তের জন্য আসেন। তদন্ত শেষে সাংবাদিকদের সামনে বিসিকের পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুল হক বলেন, তারা সার্বিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন এবং সরাসরি সবকিছু পর্যবেক্ষণ করেছেন। এসব পর্যালোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। তিনি বলেন, এটি মূলত বিসিকের অভ্যন্তরীণ তদন্ত, তাই এখনই সবকিছু প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নীলফামারীর উপপরিচালক নুরেল হক, সৈয়দপুর শিল্পনগরী কর্মকর্তা মশিউর রহমান, সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীর শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম মিন্টু, থানার এসআই ঋষিকেশ চন্দ্র বর্মণ ও এসআই মনিরুজ্জামান প্রমুখ।

মন্তব্য করুন

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

Published১১ আগস্ট, ২০২৬

সর্বশেষ সংবাদসমূহ

খবর পাঠান

আপনার এলাকার সংবাদ আমাদের পাঠান

এখনই পাঠান