সারা দেশ সারা দেশ

শেরপুরে ভাঙা সেতুতে ১৫ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ

হাফিজুর রহমান লাভলু, শেরপুর প্রতিনিধি ২ জুলাই, ২০২৬ এ ০৯:২০ AM ৩৩৩৩২ জুলাই, ২০২৬
শেয়ার:
শেরপুরে ভাঙা সেতুতে ১৫ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ

শেরপুর সদর উপজেলার গাজীরখামার ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে একটি ভাঙা সেতুর কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকার প্রায় ১৫ হাজার মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ভাঙা সেতুটির ওপর নির্ভর করেই গাজীরখামার এলাকার মানুষ শেরপুর জেলা শহরে চলাচল করতেন। এটি এলাকাবাসীর জন্য সদর উপজেলায় যাতায়াতের অন্যতম প্রধান ও সহজ মাধ্যম। বাজিতখিলা হয়ে বিকল্প দুটি সড়ক থাকলেও সেগুলো দীর্ঘ ও দুর্ভোগপূর্ণ হওয়ায় অধিকাংশ মানুষ এই সড়কটিই ব্যবহার করতে বাধ্য হন। কিন্তু দীর্ঘ ছয় বছর ধরে সেতুটি ভেঙে পড়ে থাকায় শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের মানুষকে প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ফলে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেকেই চরম ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ হোসেন, আবুল আজীমসহ অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ভাঙা সেতুর কারণে আমাদের জীবন স্থবির হয়ে গেছে। জরুরি প্রয়োজনে রোগী হাসপাতালে নেওয়া যায় না। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হয়।" তারা আরও জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থার এই বেহাল দশার কারণে এলাকায় অনেকে বিয়ের সম্পর্ক স্থাপনেও আগ্রহ দেখান না। উন্নয়নের যুগেও এমন বঞ্চিত হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত সেতুটি নির্মাণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে গাজীরখামার ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড সদস্য লাওহুব আলী জানান, সেতুটি নির্মাণের জন্য একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অবহিত করা হলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

এলাকাবাসী দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুটি নির্মাণের জন্য শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা এবং জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এএস/

মন্তব্য করুন

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

Published২ জুলাই, ২০২৬

সর্বশেষ সংবাদসমূহ

খবর পাঠান

আপনার এলাকার সংবাদ আমাদের পাঠান

এখনই পাঠান