জাতীয়

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য কলিমুল্লাহর জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই

নিজেস্ব প্রতিবেদক ১৫ জুন, ২০২৬ এ ০৭:৪৪ PM ২৫২৫১৫ জুন, ২০২৬
শেয়ার:
রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য কলিমুল্লাহর জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় গ্রেপ্তার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহকে জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। তার বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা না থাকায় আপাতত কারামুক্তিতে কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।

রুল শুনানি শেষে রোববার (১৪ জুন) বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও আইনজীবীদের বক্তব্য:

শুনানিতে জামিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. ফজলুর রহমান, এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং সৈয়দ মামুন মাহবুব। অন্যদিকে দুদকের পক্ষে আইনজীবী খান মো. মইনুল হাসান লিপন এবং রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল উপস্থিত ছিলেন।

জামিনের বিষয়ে আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব জানান, "আজকে আমরা চূড়ান্ত জামিন পেয়েছি, এটি কোনো অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ নয়। আদালত সব পক্ষের বক্তব্য শুনে রুল ‘অ্যাবসলিউট’ (চূড়ান্ত) করেছেন। যেহেতু তার বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা নেই, তাই এই আদেশের পর ওনার মুক্তিতে আইনগত কোনো বাধা থাকছে না।" তিনি আরও জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অধ্যাপক কলিমুল্লাহর পাসপোর্ট জমা দেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও প্রায় ৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত বছরের জুনে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় (ঢাকা-১) এর সহকারী পরিচালক মিনহাজ বিন ইসলাম বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।

গত বছরের ৬ আগস্ট রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তাকে ৫ দিনের রিমান্ডেও নেওয়া হয়েছিল। গত ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এরপর গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করা হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়া ও চূড়ান্ত শুনানি শেষে আজ রোববার আদালত তার জামিন মঞ্জুর করলেন।

মামলার অন্য আসামিরা:

এই মামলায় অধ্যাপক কলিমুল্লাহ ছাড়াও আরও চারজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন- অধ্যাপক এ কে এম নূর-উন-নবী (বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও প্রকল্প পরিচালক)। মো. জাহাঙ্গীর আলম (সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্য সচিব)। মো. আ. সালাম বাচ্চু (ঠিকাদার)। এম এম হাবিবুর রহমান (ঠিকাদার)।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, তৎকালীন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের 'শেখ হাসিনা ছাত্রী হল' এবং 'ড. ওয়াজেদ মিয়া রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট' ভবন নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ ২০১৭ সালের ৩১ মে থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

উপাচার্য থাকাকালীন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে ঢাকার লিয়াজোঁ অফিস থেকে ফাইল সই করা, স্বেচ্ছাচারিতা, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির নানা অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। তবে তৎকালীন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে তিনি পুরো মেয়াদ পার করতে পেরেছিলেন বলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ রয়েছে। তার আগে ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন মামলার অপর আসামি অধ্যাপক এ কে এম নূর-উন-নবী।

এএস/

ট্যাগ:#রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের#সাবেক উপাচার্য#কলিমুল্লাহর জামিন#মুক্তিতে বাধা নেই#আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী#জমা দিতে হবে পাসপোর্ট#

মন্তব্য করুন

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

Published১৫ জুন, ২০২৬

সর্বশেষ সংবাদসমূহ

খবর পাঠান

আপনার এলাকার সংবাদ আমাদের পাঠান

এখনই পাঠান