রোহিঙ্গা ট্রানজিট ক্যাম্পে পিটার সাইফুলকে হত্যার হুমকি: নিরাপত্তা চেয়ে অভিযোগ

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গাদের একটি ট্রানজিট ক্যাম্পে বসবাসরত নাগরিক সাইফুল ইসলাম পিটার ওরফে পিটার সাইফুল এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বারবার অস্ত্রধারীদের মাধ্যমে হুমকি, চাঁদাবাজি ও হত্যার ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলে জরুরি সুরক্ষা চেয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে নিরাপত্তার স্বার্থে পরিবারটিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে না রেখে পৃথক একটি ক্যাম্পে পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ ও শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এ বিষয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পরিবারটিসহ হুমকির মুখে থাকা ব্যক্তিদের নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
পিটার সাইফুলের অভিযোগ, গত সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি ট্রানজিট ক্যাম্পে বসবাস করছেন। সেখানে আব্দুল জলিল নামে আরসার এক কমান্ডারের নেতৃত্বে চাঁদাবাজি, অপহরণ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চলছে।
লিখিত অভিযোগে পিটার সাইফুল দাবি করেন, জলিল সাতবারেরও বেশি সময় ধরে অস্ত্রধারীদের সঙ্গে নিয়ে এসে তাকে এবং আরও ১৩ থেকে ১৪ জনকে একইভাবে হুমকি দিয়েছে। তারা এআর-০৩ এলাকায় এসে তার ভাই নূর ইমানুয়েল, জুহার, সালাম ও পিটার সাইফুলের খোঁজ করে এবং তাদের অবস্থান জানতে চেয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ট্রানজিট ক্যাম্পে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা প্রবেশ করে পিটার সাইফুল ও তার পরিবার এবং আরও ১৩ থেকে ১৪ ব্যক্তিকে হত্যার চেষ্টা চালায়। এ সময় জলিল তাদের পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে অন্তত চারবারের বেশি সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ট্রানজিট ক্যাম্পের ভেতরে প্রবেশ করে একই ঘটনা ঘটায়।
পিটার সাইফুলের অভিযোগ, সর্বশেষ গত ৭ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সশস্ত্র একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ ট্রানজিট ক্যাম্পের ভেতরে প্রবেশ করে আব্দুল জলিলের সহযোগিতায় তার আশ্রয়স্থলে এসে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায় এবং হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়।
পিটার সাইফুল আরও দাবি করেন, ক্যাম্প-১-এর লাম্বাশিয়া এলাকার ওসামা ইব্রাহিম ও তার দলের সশস্ত্র সদস্যরা ২০২৫ সালে বিভিন্ন ক্যাম্পে তাকে হত্যার দাবি জানিয়ে পোস্টার প্রচার করেছিল।
পিটার সাইফুলের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ও সার্বিক পরিস্থিতি জানতে ক্যাম্প প্রশাসন এবং ট্রানজিট ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে পিটার সাইফুলের পরিবারসহ অন্যদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অভিযুক্ত আব্দুল জলিলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
ট্রানজিট ক্যাম্পের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) পরিদর্শক মহসিন বলেন, "পিটার সাইফুলের লিখিত অভিযোগটি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়েছি। অভিযোগের বিষয়গুলো যাচাই করে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে যেসব তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাবে, তার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ট্রানজিট সেন্টারে বসবাসরত পরিবারগুলোর নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।"
মন্তব্য করুন
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!