পদ্মায় অবৈধ বালু উত্তোলন:ভাঙনের শঙ্কায় লক্ষাধিক মানুষের বসতভিটা

ড্রেজার মেশিন বসিয়ে পদ্মা নদীর তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে উত্তোলন করা হচ্ছে বালু। ছবি নড়িয়া উপজেলার চরআত্রা এলাকা থেকে তোলা হয়েছে।
শরীয়তপুরে নড়িয়া উপজেলার চরআত্রা ও নওপাড়া এলাকায় পদ্মা নদীতে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। প্রাভাবশালী একটি মহল দিনের পর দিন শত শত ড্রেজার বসিয়ে নদীর তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করে তা বিক্রি করছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।
এতে নতুন করে নদী ভাঙ্গনের হুমকির মুখে পড়েছে নদী তীরবর্তী কয়েক হাজার মানুষের বসতভিটা ও নদী রক্ষা বাঁধ। তবে উপজেলা প্রশাসনের দাবি- নিয়ম-নীতি অনুসরণ করেই বালু উত্তোলনের অনুমতি দেয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনের যোগশাজসে জেলার উত্তরাংশে নড়িয়া উপজেলার চরআত্রা ও নওপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে পদ্মা নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করছেন একটি প্রভাবশালী মহল। প্রায় অর্ধশতস্থানে নদীর তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে শত শত ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করার ফলে নদী ভাঙ্গনের শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন পদ্মা পাড়ের হাজার হাজার অসহায় মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আউয়াল চকিদার ও বাঁশতলা এলাকার সাইদুর রহমান বলেন, নদীতে স্পিডবোট যোগে নিজস্ব ক্যাডার বাহিনীর পাহারায় এ অবৈধ বালু উত্তোলন করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তারা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা না হলে আবারও ভয়াবহ নদী ভাঙন শুরু হবে।
নওপাড়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা কাশেম সিদ্দিক বলেন, একটি প্রভাবশালী মহল দলীয় প্রভাব খাটিয়ে পদ্মার তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন। তাতে করে আমরা আবার পদ্মার ভাঙনের কবলে পড়বো।
সুরেশ্বরের আয়না বিবি বলেন, নদী থেকে বালু উত্তোলন করার ফলে আমরা নদী ভাঙনের শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছি। বালু উত্তোলনকারীদের দাবি, সরকারি টেন্ডারের মাধ্যমে বৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন তারা।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হয়নি শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক মিজ তাহসিনা বেগম। এ বিষয়ে নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হলে তা ক্ষতিও হতে পারে আবার ভালোও হতে পারে। বিষয়টি স্টাডি করে দেখতে হবে। তবে অবৈধভাবে কেউ বালু উত্তোলন করলে তা বন্ধ করার দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের।
এদিকে সম্প্রতি জেলার দক্ষিণাংশে গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুরে নদীতে বালুভর্তি বস্তা ফেলে নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ কর্মসূচি উব্দোধন করছেন জাতীয় সংসদের হুইপ, শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুদ্দিন আহমেদ অপু।
কর্মসূচি উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নদী শাসনের জন্য আমাদের আলাদা সংস্থা আছে। নদী শাসন করার দায়িত্বে আমাদের পানি উন্নয়ন বোর্ড রয়েছে, আমাদের বিআইডব্লিউটি আছে, তারা করবে। এর বাহিরে অন্যভাবে বালু উত্তোলন করার সুযোগ নাই। বালু উত্তোলন বন্ধে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসীর।
এএস/
মন্তব্য করুন
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!