সারা দেশ ময়মনসিংহ

নেশা চক্রের খপ্পরে অচেতন গরু ব্যবসায়ী, পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিল ‘আজকের তারুণ্য’

শেরপুর প্রতিনিধি ৩১ জুলাই, ২০২৬ এ ১১:৪১ AM ২৬২৬৩১ জুলাই, ২০২৬
শেয়ার:
নেশা চক্রের খপ্পরে অচেতন গরু ব্যবসায়ী, পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিল ‘আজকের তারুণ্য’

গরুর হাটে যাওয়ার পথে 'নেশা চক্রের' খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারিয়ে অচেতন হয়ে পড়া টাঙ্গাইলের এক গরু ব্যবসায়ীকে উদ্ধার, চিকিৎসা প্রদান ও পরিচয় শনাক্তের পর অবশেষে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে শেরপুরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আজকের তারুণ্য’। স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনের মানবিক উদ্যোগটি স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

ভুক্তভোগী মজনু মিয়া (৪০) টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী উপজেলার গৌরান গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন গরু ব্যবসায়ী। জানা যায়, গরুর হাটে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি বাড়ি থেকে বের হলে পথিমধ্যে নেশা চক্রের সদস্যরা কৌশলে তাকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অচেতন করে ফেলে। পরে তার কাছে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনসহ সর্বস্ব লুট করে শেরপুর সদর পুলিশ লাইনস সংলগ্ন নবীনগর গোরস্থানের সামনে তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ‘আজকের তারুণ্য’ সংগঠনের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে শেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। সংগঠনের সদস্যরা হাসপাতালে তার চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহ ও সার্বক্ষণিক দেখভালের দায়িত্ব নেন।

উদ্ধারের সময় মজনু মিয়ার কোনো পরিচয় না থাকায় স্বজনদের সন্ধানে ‘আজকের তারুণ্য’ তাদের ফেসবুক পেজে ছবিসহ একটি পোস্ট প্রকাশ করে। পোস্টটি ছড়িয়ে পড়লে টাঙ্গাইলে থাকা তার পরিবার তাকে শনাক্ত করে সংগঠনের সাথে যোগাযোগ করে।

বুধবার (২৯ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্বজনরা শেরপুরে পৌঁছালে থানা পুলিশের উপস্থিতিতে ‘আজকের তারুণ্য’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রবিউল ইসলাম রতন, সাধারণ সম্পাদক মো. রুবাইয়াত ইসলাম প্লাবন, সাংগঠনিক সম্পাদক সোলাইমান হোসেন সম্পদ এবং ‘প্রস্ফুটিত শেরপুর’-এর প্রতিষ্ঠাতা দেবাশীষ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে মজনু মিয়াকে তার পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করেন।

দীর্ঘ দুই দিন পর স্বজনদের কাছে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মজনু মিয়া। এ সময় ভুক্তভোগী ও তার পরিবার উদ্ধারকারী স্বেচ্ছাসেবক, চিকিৎসক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

‘আজকের তারুণ্য’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রবিউল ইসলাম রতন বলেন, "অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের মূল অঙ্গীকার। একজন মানুষকে সুস্থ করে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারাটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।"

এদিকে, এই ঘটনার পর নেশা চক্রের অপতৎপরতা রুখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মন্তব্য করুন

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

Published৩১ জুলাই, ২০২৬

সর্বশেষ সংবাদসমূহ

খবর পাঠান

আপনার এলাকার সংবাদ আমাদের পাঠান

এখনই পাঠান