সারা দেশ ময়মনসিংহ

‘মলঙ্গি খাল’ পুনঃখনন শেষ পর্যায়ে: কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের আশা

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: ৩ জুলাই, ২০২৬ এ ০৯:৪৮ PM ২৪২৪৩ জুলাই, ২০২৬
শেয়ার:
‘মলঙ্গি খাল’ পুনঃখনন শেষ পর্যায়ে: কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের আশা

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘দবর দস্তা মলঙ্গি খাল’ পুনঃখনন কাজ এখন সমাপ্তির পথে। ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি নতুন প্রাণ ফিরে পাওয়ায় স্থানীয় কৃষিজীবী মানুষের মাঝে আনন্দের জোয়ার বইছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই খালটি পুরোপুরি সচল হলে এলাকার সামগ্রিক কৃষি খাতে এক অভূতপূর্ব ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বিশেষ প্রকল্পটির মোট ব্যয় বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২ কোটি ৫৭ লক্ষ টাকা। বর্তমানে প্রকল্পের মূল খনন কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। কাজের ধারাবাহিক ও সন্তোষজনক অগ্রগতি বিবেচনা করে ইতিমধ্যে প্রকল্প কমিটিকে আংশিক বিল বাবদ ৫২ লক্ষ টাকা পরিশোধ করেছে প্রশাসন। তবে পুরো কাজের নিখুঁত সমাপ্তি নিশ্চিত করতে চূড়ান্ত বিল এখনো আটকে রাখা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, সম্পূর্ণ কাজের চূড়ান্ত বিল উত্তোলনের জন্য প্রকল্প কমিটির সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা।

ইতিমধ্যে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ শহিদুল ইসলাম সোহাগ প্রকল্প এলাকাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। খননকৃত খালের কাজের গুণগতমান অত্যন্ত ভালো ও মানসম্মত হওয়ায় তিনি গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার তাগিদ দেন।

সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, খালের মূল খনন কাজ শেষ হলেও এর স্থায়িত্ব ও নান্দনিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য এখনো শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে। খালের পাড় যেন ভেঙে না যায় এবং দেখতে সুন্দর লাগে, সেজন্য শ্রমিকরা অত্যন্ত নিপুণভাবে ড্রেসিং বা মাটি সমান করার কাজ করে যাচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও এলাকার সাধারণ চাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এই খালটি পলি ও ময়লা জমে ভরাট হয়ে পড়েছিল। ফলে বর্ষায় যেমন জলাবদ্ধতা তৈরি হতো, তেমনি শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা সেচের তীব্র সংকটে ভুগতেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই মলঙ্গি খালটি পুনঃখননের ফলে খালের দুই তীরের কৃষকরা সরাসরি সুফল পাবেন। শত শত হেক্টর ফসলি জমি সরাসরি আধুনিক সেচ সুবিধার আওতায় আসবে। ফলে ওই অঞ্চলে কৃষিজাত পণ্যের উৎপাদন আগের চেয়ে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে বলে দৃঢ় আশা ব্যক্ত করেছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।

বহু বছর পর নিজেদের চিরচেনা খালটি প্রাণ ফিরে পাওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মুখে এখন হাসির ঝিলিক। এলাকার সাধারণ মানুষ ও কৃষিজীবীরা দ্রুত এই কাজটির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি এবং সেচ সুবিধা পুরোপুরি চালুর জোর দাবি জানিয়েছেন।

এএস#

মন্তব্য করুন

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

Published৩ জুলাই, ২০২৬

সর্বশেষ সংবাদসমূহ

খবর পাঠান

আপনার এলাকার সংবাদ আমাদের পাঠান

এখনই পাঠান