সারা দেশ লক্ষ্মীপুর

লক্ষ্মীপুরে মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি ২৬ জুন, ২০২৬ এ ০৫:০১ PM ১০২১০১২৬ জুন, ২০২৬
শেয়ার:
লক্ষ্মীপুরে মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ঘরে ঢুকে মা ও তার তিন মেয়েকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় রায়পুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত শাহিনুরের একমাত্র ছেলে জুনায়েদ ইসলাম শিফাত বাদী হয়ে অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারসহ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এই হত্যা মামলাটি করেছেন।

সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর-সার্কেল) আবদুর রাশেদ জানিয়েছেন, আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত পৃথক দুটি মামলা হয়েছে এবং পুলিশ, সিআইডি ও র‌্যাব যৌথভাবে এর রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চালাচ্ছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতদের মরদেহ একমাত্র ছেলে ও স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ৯টার দিকে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা ডাকাতিয়া নদীর পাড় এলাকার একটি বাড়ির নিচতলার ফ্ল্যাটে এই বর্বর হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা অন্তর মজুমদার ধারালো দা নিয়ে ওই বাসায় ঢুকে গৃহবধূ শাহীনুর বেগম (৩৮) এবং তার তিন মেয়ে সায়মা আক্তার (২০), ইকরা আক্তার (১৭) ও শিফা আক্তারকে (৯) এলোপাতাড়ি কোপায়। হামলায় ঘটনাস্থলেই শাহীনুর বেগম ও তার বড় মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার মারা যান। পরবর্তীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে বাকি দুই ছোট মেয়ে শিফা ও ইকরাও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় জনতার গণপিটুনিতে অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার (৩০) নিহত হয়। নোয়াখালীর সুবর্ণচর এলাকার বাসিন্দা অন্তর রায়পুর শহরে ফল বিক্রি করতো। তবে এই পরিবারের সঙ্গে তার কী সম্পর্ক ছিল এবং কেন সে এমন নৃশংসতা চালাল, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয়ভাবে আর্থিক লেনদেনের গুঞ্জন শোনা গেলেও পুলিশ সবদিক মাথায় রেখে তদন্ত করছে। এদিকে নিহত অন্তরের লাশ এখনো সদর হাসপাতালের হিমঘরে পড়ে আছে, তার মরদেহ নিতে এখন পর্যন্ত কোনো স্বজন বা পরিচিত কেউ এগিয়ে আসেনি।

এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের পর পুরো রায়পুর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একমাত্র বোন ও মা-কে হারিয়ে ছেলে শিফাত হোসেন মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন। শুক্রবার বিকেল ৫টায় রায়পুর শহরের ধানহাটা এলাকায় নিহত চারজনের প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে তাদের মরদেহ কুমিল্লার হোমনার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

এএস/

মন্তব্য করুন

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

Published২৬ জুন, ২০২৬

সর্বশেষ সংবাদসমূহ

খবর পাঠান

আপনার এলাকার সংবাদ আমাদের পাঠান

এখনই পাঠান