কোচিং ফি দিতে না পারায় সহকারী অধ্যাপকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের পেটানোর অভিযোগ

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে হাজিরহাট হামিদিয়া কামিল মাদ্রাসায় কোচিং ফি দিতে না পারায় দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এলোপাতাড়ি মারধরের অভিযোগ উঠেছে সহকারী অধ্যাপক নুরুল হুদার বিরুদ্ধে! অবৈধ কোচিং বাণিজ্য ও শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে কোচিং ফি দিতে দেরি হওয়ায় দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে সহকারী অধ্যাপক (আরবি) নুরুল হুদার বিরুদ্ধে। উপজেলার হাজিরহাট হামিদিয়া কামিল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে কোচিং বাণিজ্য চালানো এবং ফি না পাওয়ায় শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তোলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির দশম শ্রেণির ৭৬ জন শিক্ষার্থীর জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাদ্রাসায় অবস্থান করে লেখাপড়া করার নিয়ম চালু করা হয়। এর জন্য শিক্ষার্থীপ্রতি ৩ হাজার টাকা (১ হাজার টাকা কোচিং, ১ হাজার ৫০০ টাকা দুপুরের খাবার ও ৫০০ টাকা সকালের নাস্তা বাবদ) ফি নির্ধারণ করেন অধ্যক্ষ ও শিক্ষকরা।
অথচ শিক্ষা অধিদপ্তরের সুস্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কোচিং বাণিজ্য সম্পূর্ণ অবৈধ। অভিযোগ রয়েছে, মাদ্রাসার কক্ষে অবস্থানরত দু'জন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নিয়মিত প্রাইভেট পড়তে চাপ দিচ্ছেন। এছাড়া মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীকে (আয়া) দিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবার রান্না করানোর কাজও করানো হচ্ছে।
ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী জানায়, নির্ধারিত ফি জমা দিতে না পারায় সহকারী অধ্যাপক নুরুল হুদা তাদের এলোপাতাড়ি মারধর করেন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে এক অভিভাবক বলেন, "কোচিংয়ের ৩ হাজার টাকা ফি পরিশোধে অভিভাবকদের সাময়িক সমস্যা হতেই পারে। টাকার জন্য নুরুল হুদা স্যার শিক্ষার্থীদের এলোপাতাড়ি মারধর করেছেন, এমনকি মেয়েদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেছেন। ফি আদায়ের জন্য শিক্ষক এভাবে গায়ে হাত তুলতে পারেন না, এটি সম্পূর্ণ অন্যায়।"
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক নুরুল হুদা মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, "ফি দিতে না পারায় কোনো শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়নি। কয়েকজন শিক্ষার্থী নিয়মিত মাদ্রাসায় না আসায় তাদেরকে মারা হয়েছে।"
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসাইন জানান, তিনি বর্তমানে একটি মিটিংয়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, কমলনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাহাত উজ জামান ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
মন্তব্য করুন
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!