খেলা

জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বকাপের নীরব রেফারি

সোয়াইফ আহাম্মেদ আপন ১৬ জুন, ২০২৬ এ ০৪:০৯ PM ৫৮৫৮১৬ জুন, ২০২৬
শেয়ার:
জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বকাপের নীরব রেফারি

আবহাওয়া এবং খেলাধুলা পরস্পর ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত, ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হতে পারে। ৩০ বছরেরও বেশি সময় পর টুর্নামেন্টটি প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে ফিরেছে। তবে এটি হবে ইতিহাসের সবচেয়ে দূষণকারী বিশ্বকাপ। বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যদ্বাণী করছেন, এ খেলাগুলো কাতারে অনুষ্ঠিত ২০২২ বিশ্বকাপের তুলনায় তিনগুণ বেশি কার্বন নিঃসরণ করতে পারে। তবে এবারের আসরে আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি দল অংশগ্রহণ করছে। তিনটি দেশের ১৬টি স্টেডিয়ামে ১০৪ ম্যাচ খেলবে ৪৮ দেশ। টুর্নামেন্টের বিশালতা এবং উত্তেজনা অনস্বীকার্য, কিন্তু এর কার্বন ফুটপ্রিন্টও কম নয়। এ কারণে, জলবায়ু পরিবর্তনকে বলা হচ্ছে বিশ্বকাপের নীরব রেফারি। 

ফিফার জলবায়ু কৌশল প্রতিবেদন অনুসারে, গত ১৫ বছরে অধিকাংশ কার্বন নিঃসরণের উৎস হলো ভ্রমণ। এ গ্রীষ্মে বিমান চলাচলই হবে এর প্রধান কারণ। যেহেতু খেলোয়াড় এবং লাখ লাখ সফরকারী সমর্থক তাদের দলের ম্যাচ সরাসরি দেখতে তিন দেশে যাতায়াত করবে। এর বাইরে স্টেডিয়াম এবং হোটেল-মোটেলগুলোর পরিকাঠামো ও এগুলোতে বিভিন্ন জ্বালানিশক্তি ব্যবহার আরো বেশি দূষণের জন্য দায়ী হতে পারে। 

বিশেষ করে ফুটবল মাঠের ক্ষেত্রে, পিচ সবুজ রাখার জন্য ব্যবহত পানি অতিরিক্ত বর্জ্যের কারণ হতে পারে। এ কারণেই কিছু স্টেডিয়াম সম্প্রতি জলবায়ু সমাধানের সবচেয়ে উদ্ভাবনী উদাহারণ হয়ে উঠেছে। ফুটবল মাঠে খেলাকে নিয়ন্ত্রণ করবেন রেফারিরা, আর একইভাবে জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ করবে নতুন উদ্ভাবিত কৌশলগুলো।  

যুক্তরাজ্যের ফরেস্ট গ্রিন রোভার্স বিশ্বের প্রথম কার্বন নিরপেক্ষ স্টেডিয়ামে পরিণত হয়েছে এবং বিশ্বের সবচেয়ে সবুজ ফুটবল ক্লাব হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে। আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামের টেকসই উদ্যোগ ব্যবস্থাপক অ্যান্ড্রু বোহেঙ্কো বলেন, এ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব এবং নকআউট পর্বের বেশ কয়েকটি ম্যাচ, যার মধ্যে একটি সেমিফাইনালও রয়েছে, এ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। পরিচ্ছন্ন শক্তি ব্যবহার এবং বর্জ্যমুক্ত প্রচষ্টোর জন্য বিভিন্ন সনদ অর্জনকারী  বিশ্বের প্রথম স্টেডিয়াম এটি। স্টেডিয়ামটিতে এবং এর পাশের জর্জিয়া ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস সেন্টারে ৪ হাজার সেৌর প্যানেল স্থাপন করে ২৯ শতাংশ বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানো হয়েছে। প্রাকৃতিক আলো আনার জানালা এবং শহরের আকাশরেখার দৃশ্যও শক্তি ব্যবহার কমাতে সাহায্য করে।

মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়াম গ্রিন স্পোর্টস অ্যালায়েন্সের সক্রিয় সদস্য। এটি এমন একটি সংস্থা যা পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়ে সহযোগিতার জন্য বিভিন্ন দল, লীগ, ভেন্যু এবং কলেজকে একত্রিত করে।  

সান ফ্রান্সিসকোর লেভিস স্টেডিয়াম এ গ্রীষ্মে চলমান বিশ্বকাপের আরেকটি আয়োজক স্থান এবং এটি তার ইতিবাচক পরিবেশগত প্রভাবের জন্য বেশ কয়েকটি পুরস্কার ও স্বীকৃতি লাভ করেছে। স্টেডিয়ামটির সৌর প্যানেল, পুনর্ব্যবহত কাঠ, সবুজ ছাদ, খামার থেকে সরাসরি টেবিলে পরিবেশিত খাবার এবং পুনর্ব্যবহার ও কম্পোস্টিং কর্মসূচি এ সবই এর কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমাতে সাহায্য করে।

এএস/

ট্যাগ:#জলবায়ু পরিবর্তন#বিশ্বকাপ#নীরব রেফারি#

মন্তব্য করুন

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

Published১৬ জুন, ২০২৬

সর্বশেষ সংবাদসমূহ

খবর পাঠান

আপনার এলাকার সংবাদ আমাদের পাঠান

এখনই পাঠান