প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে লালমনিরহাটে তথ্য গোপন করে এক কোটিপতি বিধবাকে বিয়ে করেছেন আমির হোসেন নামে এক বাসার কাজের ছেলে। ৫ লাখ টাকা দেনমোহরে সম্পন্ন হওয়া এই বিয়ের রেজিস্ট্রি দীর্ঘদিন গোপন রেখে ইতিমধ্যে ওই বিধবার তিন থেকে চার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, বিধবার মৃত স্বামীর দুই নাবালক সন্তানের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি ও মার্কেট গ্রাস করারও পাঁয়তারা চলছে। এই ঘটনা নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
হাতিয়েছেন কোটি টাকা: কোটিপতি বিধবাকে বিয়ে করলেন কাজের ছেলে

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর সদর উপজেলার কাশিমপুরের মৃত লোকমান হোসেনের মেয়ে দুই সন্তানের জননী বিধবা স্বপ্না বেগমের বাসায় কাজের ছেলে হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ী ইউনিয়নের চন্দনপাট ময়নার চড়া এলাকার ফুল মিয়ার ছেলে আমির হোসেন। স্বপ্না বেগমের মৃত স্বামীর দুটি নাবালক মেয়ে রয়েছে। তাদের নামে গাজীপুর সদরে ৮ শতাংশ জমির ওপর একটি মার্কেটসহ মোট ৬৩ শতাংশ জমি রয়েছে। এই বিপুল সম্পত্তির লোভে পড়ে আমির হোসেন ওই বিধবাকে নিয়ে পালিয়ে আসেন।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ী ইউনিয়নের হাজীগঞ্জের কাজী অফিসে উপস্থিত হয়ে তাঁরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা ২০০৯ অনুযায়ী (বহি নং-এ, পৃষ্ঠা নং-০৮, ক্রমিক নং-২৫/২৬) কমলাবাড়ী ইউনিয়নের কাজী দেলোয়ার হোসেন ওরফে আলতাফ হোসেন এই বিয়ে রেজিস্ট্রি করেন। আমির হোসেন বিবাহিত এবং তাঁর ঘরে স্ত্রী-সন্তান থাকা সত্ত্বেও সম্পূর্ণ প্রতারণামূলকভাবে তথ্য গোপন করে কাবিননামায় নিজেকে ‘অবিবাহিত’ দেখিয়ে এটি তাঁর ‘প্রথম বিবাহ’ হিসেবে রেজিস্ট্রি করান।
দীর্ঘদিন এই বিয়ের কাবিননামা গোপন থাকায় স্বপ্নার নাবালক সন্তানরা তা খুঁজে পাচ্ছিল না। পরবর্তীতে লালমনিরহাটের কয়েকজন অনুসন্ধানী সাংবাদিকের সহায়তায় এই জালিয়াতির কাবিননামাটি উত্তোলন করা হলে পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ উঠেছে, আমির হোসেন তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী স্বপ্না বেগমকে ঢাল বানিয়ে আদালতের মাধ্যমে ওই নাবালক মেয়েদের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির অভিভাবক হওয়ার চতুর পরিকল্পনা করছেন।
প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া এবং তথ্য গোপন করে জালিয়াতির মাধ্যমে এই বিয়ে করায় আমির হোসেনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার সচেতন মহল। অসহায় নাবালক সন্তানদের কোটি টাকার সম্পত্তি রক্ষা এবং তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
এএস/
মন্তব্য করুন
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!