সারা দেশ চট্টগ্রাম

হোমনায় একই পরিবারের ট্রিপল মার্ডার: তদন্তে মেলেনি ক্লু

কুমিল্লা প্রতিনিধি ২৭ জুন, ২০২৬ এ ০৯:৫৯ PM ৫৩৫৩২৭ জুন, ২০২৬
শেয়ার:
হোমনায় একই পরিবারের ট্রিপল মার্ডার: তদন্তে মেলেনি ক্লু

কুমিল্লার হোমনা উপজেলার ঘারমোড়া ইউনিয়নের মনিপুর গ্রামে একই পরিবারের তিনজনকে গলা কেটে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার চার মাস অতিবাহিত হলেও এখনো হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সংঘটিত এই নৃশংস ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় এলাকায় যে আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছিল, তা এখনো কাটেনি। বিচার প্রাপ্তি নিয়ে নিহতদের পরিবার ও স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

নৃশংস সেই ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা:

ফেব্রুয়ারি মাসের এক রাতে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা প্রবাসী জহিরুল ইসলামের বসতঘরে ঢুকে তার স্ত্রী পাপিয়া আক্তার সুখী (৩০), চার বছরের ছেলে হোসাইন এবং পাপিয়ার ভাসুরের ছেলে জুবায়েরকে (৫) ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করে। পরদিন সকালে প্রতিবেশীরা ঘরের জানালা দিয়ে মেঝেতে তাদের নিথর ও রক্তাত্ব দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়।

মামলা ও তদন্তের ধীরগতি:

এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর নিহত সুখীর সৌদি প্রবাসী স্বামী মো. জহিরুল ইসলাম দেশে ফিরে হোমনা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ, পিবিআই (PBI) এবং সিআইডি (CID)-সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে চার মাস পেরিয়ে গেলেও মামলার দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি বা খুনিদের কাউকেই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

লুটপাটের আলামত ও সন্দেহ:

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের রাতে ঘরের আলমারি ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করা হয়েছিল। তবে এটি কেবলই ডাকাতি নাকি পূর্বশত্রুতার জেরে সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং তা আড়াল করতে চুরির নাটক সাজানো হয়েছে—সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও হত্যাকাণ্ডের অকাট্য কোনো প্রমাণ বা ক্লু উদ্ধার করতে পারেনি।

পরিবারের আকুতি:

নিহতদের পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনটি তাজা প্রাণ কেড়ে নেওয়ার পর চার মাস কেটে গেলেও খুনিরা অধরাই রয়ে গেছে। তারা এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, মামলার সংবেদনশীলতার কারণে নিখুঁতভাবে তদন্ত চালানো হচ্ছে এবং খুব শীঘ্রই এই ট্রিপল মার্ডারের জট খুলবে বলে তারা আশাবাদী।

এএস/


মন্তব্য করুন

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

Published২৭ জুন, ২০২৬

সর্বশেষ সংবাদসমূহ

খবর পাঠান

আপনার এলাকার সংবাদ আমাদের পাঠান

এখনই পাঠান