গুপ্তদের হুমকি-ধামকিতে পাগলেও হাসে: ইশরাক হোসেন

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, জামায়াতের নেতাদের সাম্প্রতিক হুমকি-ধমকিতে মানুষ হাসে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ২০১৪ সালের পর জামায়াত কোথায় ছিল? সে সময়ের অনেক নেতা ছাত্রলীগের ছত্রছায়ায় ‘গুপ্ত’ অবস্থায় ছিলেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে স্যার জে. সি. বোস ইনস্টিটিউট ও কলেজে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ইশরাক হোসেন।
তিনি বলেন, “২০১৪ সালের পরে কোথায় ছিল জামায়াত? আজকে যারা নেতা, তারা তো ছাত্রলীগের ছত্রছায়ায় গুপ্ত ছিল। ওই সময় তারা গুপ্ত থেকে আমাদের ওপর নির্যাতন করেছিল। আজকে যখন তারা হুমকি-ধামকি দেয়, তখন পাগলও হাসে।”
বিরোধী দলগুলোর সমালোচনা করে ইশরাক হোসেন বলেন, “আজকে যারা বিরোধী দলে, তারা ছিল স্বাধীনতাবিরোধী। তারা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মানুষকে হত্যা করেছিল, নারীদের ধর্ষণ করেছিল। আজও নানা ইস্যুতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা সামনে এনে দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে। তারা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চেষ্টা করছে এবং মবতন্ত্রের মাধ্যমে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বিরোধী দলগুলোর ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তাদের ভূমিকা আমরা অস্বীকার করছি না। আমরা তাদের অবদানকে স্বীকার করি এবং স্বীকৃতিও দিয়েছি। কিন্তু বিগত কয়েক দিনে গুটিকয়েক নেতা বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সেই অবদানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।”
তিনি আরও বলেন, “যারা জুলাই যুদ্ধে আহত বা নিহত হয়েছেন, তাদের জন্য তারা কী করেছে? আমাদের সরকার শহীদ ও আহতদের পরিবার পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে। অথচ আজকে যারা নানা ইস্যুতে আন্দোলন করার পাঁয়তারা করছে, তারা দেশকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে নেওয়ার চেষ্টা করছে।”
দেশের জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি খাত দীর্ঘদিন একটি ‘মাফিয়া চক্রের’ হাতে জিম্মি ছিল। বর্তমানে গ্রাম-গঞ্জে যে লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে, তার জন্য তিনি ওই চক্রকে দায়ী করেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, “শেখ হাসিনার আমলে যা হয়েছিল, তার ফলই আমরা এখন ভোগ করছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী দ্রুত সময়ের মধ্যে জ্বালানি নীতিমালা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবেন।”
তিনি বলেন, “কোনো বিদেশি প্রভুর দ্বারা পরিচালিত না হয়ে আমরা সব সময় একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ার জন্য কাজ করছি। আমাদের শক্তি বাংলাদেশের জনগণ। জনগণের শক্তিকে সঙ্গে নিয়েই আমরা স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ে তুলব।”
শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু।
পরে প্রতিমন্ত্রী বিক্রমপুর ভূইয়া মেডিক্যাল কলেজে আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নেন এবং সেখানে বৃক্ষরোপণ করেন। এর আগে স্যার জে. সি. বোস ইনস্টিটিউটে পৌঁছালে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তাকে স্বাগত জানান।
মন্তব্য করুন
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!