গাইবান্ধায় নারী অধিকার ও ক্ষমতায়নে নাগরিক সমাজ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে নির্বাচিত সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং এ বিষয়ে কার্যকর জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গাইবান্ধায় এক বর্ণাঢ্য নাগরিক সমাজ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার (১৫ জুন) সকালে ব্যানার, ফেস্টুন ও বাদ্যযন্ত্র সহকারে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে শহরের ‘আর-রহমান হোটেল অ্যান্ড কমিউনিটি সেন্টার’ হলরুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সুশীল প্রকল্প, গাইবান্ধা সিএসও হাব এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘এসকেএস ফাউন্ডেশন’ এর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে সহযোগিতা করে একশনএইড বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
আলোচনা সভায় প্যানেল বক্তারা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত সরকারের নারী ক্ষমতায়ন ও অধিকারবিষয়ক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এখন দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণে অন্তর্ভুক্তি এবং স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপদ ও সমঅধিকার ভিত্তিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার, নাগরিক সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক। ছিন্নমূল মহিলা সমিতির নির্বাহী পরিচালক মো. মুরর্শিদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এসকেএস ফাউন্ডেশনের কো-অর্ডিনেটর (ফিল্ড অপারেশন মাইক্রো ফাইন্যান্স প্রোগ্রাম) মো. বাহারাম খান।
প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- প্রফেসর মো. আব্দুর রশিদ, গাইবান্ধা সরকারি কলেজ। মৌসুমি বিশ্বাস, প্রজেক্ট ম্যানেজার (সুশীল প্রকল্প), একশনএইড বাংলাদেশ।মো. খাদেমুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক, জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। মো. ইমাম হাসিম, উপ-পরিচালক, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর। রিক্তু প্রসাদ, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।
এছাড়াও একশনএইড বাংলাদেশের মনিটরিং (মিল) অফিসার মো. রবিউল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, নারী নেত্রী ও যুব প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
সম্মেলনের উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সাইবার বুলিং, আদিবাসী ও প্রান্তিক নারীদের স্বাস্থ্যসেবা, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় সরকারে নারীর নেতৃত্বের বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন প্যানেল আলোচকরা।
প্যানেল আলোচনা শেষে উপস্থিত জনপ্রতিনিধিরা নাগরিক সমাজের এই দাবিসমূহ জাতীয় সংসদসহ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্তরে তুলে ধরার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। সবশেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এই সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটে।
এএস/
মন্তব্য করুন
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!