সারা দেশ ঢাকা

একদিন শেষ হবে’ সংগ্রাম’ জীর্ণ কুটিরে রাবেয়ার বসবাস

অনলাইন ডেস্ক ২৭ জুন, ২০২৬ এ ১০:২৪ PM ৩০৩০২৭ জুন, ২০২৬
শেয়ার:
একদিন শেষ হবে’ সংগ্রাম’ জীর্ণ কুটিরে রাবেয়ার বসবাস

"আমার এই সংগ্রাম একদিন ঠিকই শেষ হবে। সেদিন আমার সন্তানেরাই হবে আমার সবচেয়ে বড় পরিচয়।" — রাবেয়া

ভোরের আলো ফোটার আগেই রাবেয়ার দিন শুরু হয়। যখন চারপাশের পৃথিবী গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন তার জীর্ণ কুটিরের চুলায় আগুন জ্বলে। কাকডাকা ভোরে উঠে সংসারের যাবতীয় কাজ শেষ করে তাকে ছুটতে হয় শহরের একটি পোশাক কারখানার দিকে। স্বামী এক দুরারোগ্য ব্যাধিতে মারা যাওয়ার পর গত দশটি বছর এভাবেই চলছে তার জীবন। দুই অবুঝ সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে নিজের সব চাওয়া-পাওয়া বিসর্জন দিয়েছেন তিনি। সমাজ, দারিদ্র্য আর একাকীত্বের সাথে তার এই অবিরাম যুদ্ধ যেন হার না মানা এক মহাকাব্য।

অবিরাম জীবনযুদ্ধ

রাবেয়ার জীবনের প্রতিটি দিনই একেকটি নতুন পরীক্ষা। কারখানার হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে সন্ধ্যায় যখন বাড়ি ফেরেন, তখন শরীরের প্রতিটি পেশি যেন বিদ্রোহ করে। কিন্তু বিশ্রামের কোনো অবকাশ তার জীবনে নেই। সন্তানদের পড়াশোনা দেখাশোনা করা, রাতের খাবার তৈরি—সবকিছু একাই নিপুণ হাতে সামলাতে হয় তাকে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই যুগে সংসারের খরচ মেটাতে গিয়ে নিজের জন্য প্রয়োজনীয় একটি শাড়ি বা ওষুধ কেনার টাকাটুকুও অনেক সময় তার থাকে না।

একাকী একজন নারীর পথচলা কখনোই মসৃণ হয় না। সমাজের কিছু মানুষের বাঁকা কথা আর কটূক্তি মাঝে মাঝে তার মনোবল ভেঙে দিতে চায়। কিন্তু পরক্ষণেই সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি দ্বিগুণ শক্তিতে আবার ঘুরে দাঁড়ান। তার এই সংগ্রাম কেবল টিকে থাকার নয়, বরং মাথা উঁচু করে সসম্মানে বাঁচার সংগ্রাম।

ভবিষ্যতের বুনন ও স্বপ্ন

রাবেয়ার চোখের দৃষ্টিতে ক্লান্তির সুস্পষ্ট ছাপ থাকলেও সেখানে স্বপ্নের কোনো অভাব নেই। তিনি জানেন, জীবনের এই ঘনঘোর অন্ধকার চিরস্থায়ী নয়। বড় ছেলেটি এবার কলেজে বৃত্তি পেয়েছে, আর ছোট মেয়েটি স্কুলের প্রতিটি পরীক্ষায় প্রথম হচ্ছে। জীর্ণ ঘরের কোণে সামান্য আলোয় ছেলেমেয়েদের পড়ার টেবিলে ডুবে থাকা দেখলে রাবেয়ার সমস্ত ক্লান্তি নিমিষেই দূর হয়ে যায়।

তিনি স্বপ্ন দেখেন এক নতুন ভবিষ্যতের; যেখানে তাকে আর যন্ত্রের মতো খাটতে হবে না, যেখানে অভাবের তাড়নায় রাতের অন্ধকারে চোখের জল ফেলতে হবে না। যেদিন তার ছেলেমেয়েরা নিজেদের পায়ে শক্ত হয়ে দাঁড়াবে, সমাজের বুকে মাথা উঁচু করে প্রতিষ্ঠিত হবে, সেদিন তার জীবনের সব না-পাওয়া আর বঞ্চনা পূর্ণতায় রূপ নেবে।

"আমার এই সংগ্রাম একদিন ঠিকই শেষ হবে। সেদিন আমার সন্তানেরাই হবে আমার সবচেয়ে বড় পরিচয়।" — রাবেয়া

নতুন ভোরের প্রত্যাশা

আমাদের চারপাশে রাবেয়ার মতো এমন হাজারো নারী নীরবে-নিভৃতে জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা কখনো হার মানতে শেখেননি। ঘামে ভেজা প্রতিটি দিন তাদের নিয়ে যাচ্ছে এক নতুন, আলোকিত ভোরের দিকে। রাবেয়া দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, তার এই কষ্টের প্রহরগুলো চিরকাল থাকবে না।

সেই সুদিন হয়তো খুব বেশি দূরে নয়, যেদিন রাবেয়াদের মতো অদম্য নারীদের জীবনে সমস্ত বাধাবিপত্তি পেরিয়ে সত্যিই এক প্রশান্তির সোনালী সকাল আসবে। তাদের এই অসীম ধৈর্য এবং আত্মত্যাগের গল্পগুলোই ভবিষ্যতের প্রজন্মের কাছে অনন্ত অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

এএস/

মন্তব্য করুন

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

Published২৭ জুন, ২০২৬

সর্বশেষ সংবাদসমূহ

খবর পাঠান

আপনার এলাকার সংবাদ আমাদের পাঠান

এখনই পাঠান