সারা দেশ রাজশাহী

ধর্ষণ অভিযোগ: আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ,পোস্টমর্টেম রিপোর্ট নিয়ে শঙ্কা

রাজশাহী ব্যুরো ৮ জুন, ২০২৬ এ ১২:২৮ AM ১১৯৩২৮ জুন, ২০২৬
শেয়ার:
ধর্ষণ অভিযোগ: আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ,পোস্টমর্টেম রিপোর্ট নিয়ে শঙ্কা

লাশ লোকানোর চেষ্টা,পুলিশের ভূমিকা

গোসলদানকারীদের জবানবন্দি

শরীরে এসিড ও আঘাতের দাগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট ইউনিয়নের মোহনবাগ এলাকায় ১৫ বছর বয়সী গৃহপরিচারিকা নয়নীর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড-তা নিয়ে স্থানীয়দের মনে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ দেখা দিয়েছে। স্বজন ও প্রতিবেশীদের অভিযোগ, একটি পাশবিক হত্যাকাণ্ডকে ‘আত্মহত্যা’ বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নয়নীকে প্রথমে আলহাজ রইসউদ্দিন এবং পরবর্তীতে তার আত্মীয় জ্যোতির বাড়িতে গৃহপরিচারিকা হিসেবে রাখা হয়।

স্বজনদের দাবি, জ্যোতির খালাতো ভাই মেহবুব-এ-খোদা নোমান নয়নীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করে। এর ফলে নয়নী আড়াই থেকে তিন মাসের গর্ভবতী হয়ে পড়লে তাকে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। ব্যর্থ হয়ে গত ১ জুন দুপুরের পর রইসউদ্দিনের বাড়ির দোতলায় নয়নীর ওপর নির্যাতন চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয় এবং পরে লাশ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, নয়নীকে দিনের বেলা হত্যা করা হলেও গভীর রাত পর্যন্ত থানাকে বিষয়টি জানানো হয়নি। রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাড়ির মালিক রইসউদ্দিনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, নয়নী খুব রাগী ছিল এবং রাগ করে নিজেই ফাঁসি দিয়েছে। পুলিশকে কেন জানানো হয়নি।

এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “পরিবারকে খবর দিয়েছি, তারা আসলে সিদ্ধান্ত নেব।”

পরবর্তীতে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রইসউদ্দিনের পরিবারকে হেফাজতে নেয়। পরদিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে নয়নীর লাশ গোসল করানোর সময় শিউরে ওঠেন স্থানীয় নারীরা।

গোসলদানকারী আকলিমা বেগম, রুবি বেগম ও বেদানা বেগম জানান- লাশের শরীরে তাকালে চোখ ফিরিয়ে নিতে হয়। নয়নীর লজ্জাস্থান ও এর আশেপাশে এসিড দিয়ে ঝলসে দেওয়া হয়েছিল। তার থুতনীতে আঘাতের দাগ ছিল এবং আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে সে আড়াই থেকে তিন মাসের গর্ভবতী ছিল। তাকে মেরে ফেলে ফাঁসির নাটক সাজানো হয়েছে।

নয়নীর দাদা আমির চাঁন ও ফুফু পারভীন জানান, ঘটনার দিন তাদের ডেকে নিয়ে লাশ বিছানায় শোয়ানো অবস্থায় দেখানো হয় এবং দীর্ঘ সময় বাড়ির বাইরে আসতে দেওয়া হয়নি। নয়নীর দাদা সোহবুল হক অভিযোগ করেন, ঘটনার পরদিন সকালে রইসউদ্দিন হাজীর পক্ষ থেকে প্রথমে এক লক্ষ ও পরে দুই লক্ষ টাকা দিয়ে পুরো ঘটনাটি ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।

এছাড়া নয়নীর আরেক দাদা গ্রাম্য ডাক্তার রেজাউল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন, থানায় এজাহার দায়ের করতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে উল্টো স্বজনদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দোহাই দিয়ে গড়িমসি করে।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান বলেন, “ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি লাশ শোয়ানো অবস্থায় ছিল। এটি ফাঁসিতে ঝুলানো মনে হয়নি। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।” তবে স্বজনদের আশঙ্কাই সত্যি প্রমাণিত হলো ময়নাতদন্তের রিপোর্টে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালের ই.এম.ও ডা. রাশেদ জানান, “নয়নীর মৃতদেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে এসিড নিক্ষেপ, আঘাত বা গর্ভবতী হওয়ার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। নয়নী স্বেচ্ছায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।” হাসপাতালের এই রিপোর্টের পর নিহতের পরিবার ও পুরো শিবগঞ্জ উপজেলায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

স্বজনদের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহল মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ময়নাতদন্তের রিপোর্টকে প্রভাবিত করেছে। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এএস/

ট্যাগ:#আত্মহত্যা নাকি#পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড#লাশ লোকানোর চেষ্টা#পুলিশের ভূমিকা#গোসলদানকারীদের জবানবন্দি#শরীরে এসিড ও আঘাতের দাগ#

মন্তব্য করুন

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

Published৮ জুন, ২০২৬

সর্বশেষ সংবাদসমূহ

খবর পাঠান

আপনার এলাকার সংবাদ আমাদের পাঠান

এখনই পাঠান