ফিচার

বিয়ের পিঁড়িতে বসার গড় বয়স কত, শুমারির তথ্য কী বলছে?

বিশেষ প্রতিনিধি ১৭ জুন, ২০২৬ এ ০৫:৫৪ PM ৩৫৩৫১৭ জুন, ২০২৬
শেয়ার:
বিয়ের পিঁড়িতে বসার গড় বয়স কত, শুমারির তথ্য কী বলছে?

একসময় এ দেশের গ্রামীণ সমাজে প্রবাদ ছিল–‘কুড়িতেই বুড়ি’। ৯ থেকে ১২ বছরের কন্যাসন্তানকে ছাদনাতলায় পাঠানোই ছিল চেনা সামাজিকতা। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘হৈমন্তী’ গল্পের সেই সতেরো বছরের নায়িকাকে নিয়ে সমাজে যে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছিল, আজ আধুনিক বাংলাদেশের বাস্তবতায় তা কেবলই রূপকথা। বর্তমান তরুণ-তরুণীদের চোখে এখন শুধু বিয়ের সানাই বাজে না, সেখানে ডানা মেলেছে করপোরেট সিঁড়ি ভাঙার স্বপ্ন আর অর্থনৈতিক স্বাধীনতার তীব্র আকাঙ্ক্ষা। নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে, ব্যাংক ব্যালেন্স গুছিয়ে তবেই এখনকার প্রজন্ম বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন।

কিন্তু এই রূপান্তর আমাদের এক সত্যিকারের সভ্যতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে, নাকি কোনো অলক্ষিত সামাজিক সুনামির অন্ধকারে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে–সেই খবর কি আমরা রাখছি? ক্যারিয়ারের এই জৌলুসের যুগে বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরা ঠিক কোন বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন? এই সামাজিক রূপান্তরের আসল চিত্রটি উঠে এসেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সবশেষ শুমারির চূড়ান্ত পরিসংখ্যানে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সবশেষ শুমারির তথ্য অনুযায়ী, দেশের তরুণ-তরুণীদের প্রথম বিয়ের গড় বয়স আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে পুরুষদের প্রথম বিয়ের গড় বয়স এখন দাঁড়িয়েছে ২৫.২৮ বছরে–অর্থাৎ ক্যারিয়ারের শক্ত ভিত্তি গড়তে জীবনের পঁচিশটি বসন্ত পার করে তবেই একজন তরুণ জীবনের সবচেয়ে বড় ‘হ্যাঁ’টি বলছেন।

অন্যদিকে নারীদের ক্ষেত্রে প্রথম বিয়ের গড় বয়স ১৯.২৯ বছর। নারীদের বিয়ের বয়স আগের চেয়ে কিছুটা বাড়লেও, এই দুইয়ের মাঝখানে রয়ে গেছে প্রায় ৬ বছরের এক বিশাল মনস্তাত্ত্বিক ব্যবধান, যা আমাদের ঐতিহ্যগত পারিবারিক কাঠামোরই প্রতিফলন। শুমারির তথ্য আরও বলছে, দেশের ১০ বছর বা তার বেশি বয়সিদের মধ্যে বর্তমানে বিবাহিত ৬৫.০৮ শতাংশ এবং অবিবাহিত বা ‘সিঙ্গেল’ ২৮.৮২ শতাংশ।

আধুনিক জীবনের তীব্র মানসিক ও করপোরেট চাপের কারণে শহরাঞ্চলে ডিভোর্সের গ্রাফ কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হলেও, তা এখনও আমাদের চেনা সমাজকে পুরোপুরি গ্রাস করতে পারেনি।

কিন্তু এখানেই গল্পের শেষ নয়, এখান থেকেই শুরু আসল মনস্তাত্ত্বিক ক্লাইমেক্স। যে মুদ্রার একপিঠে স্বাবলম্বিতা আর আধুনিকতা, তার ওপিঠেই লুকিয়ে আছে এক ভয়ংকর সামাজিক বিপর্যয়। প্রতিষ্ঠার এই অন্ধ ইঁদুরদৌড় আমাদের আদি ও সহজাত পারিবারিক বন্ধনগুলোকে নিঃশব্দে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে।

আজ গণমাধ্যমের পাতা ওল্টালেই দেখা যায়, যে মা-বাবা নিজের রক্ত জল করে সন্তানকে ‘প্রতিষ্ঠিত’ করলেন, সেই সন্তানরা আজ বৃদ্ধ মা-বাবাকে একাকী ফেলে রেখে নিজেদের তথাকথিত ‘ক্যারিয়ারের নেশায়’ মত্ত। করপোরেট লাউঞ্জে বসে যে তরুণ বিশ্বজয়ের ব্লু-প্রিন্ট বানাচ্ছে, ঘরের কোণে তার বৃদ্ধ মা-বাবা হয়তো এক ফোঁটা স্নেহের জন্য চাতকের মতো চেয়ে আছেন–এ যেন এক আধুনিক কুসংস্কার।

নিজের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতিকে অবজ্ঞা করে কখনও প্রকৃত সভ্য সমাজ তৈরি সম্ভব নয়। আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে যদি পারিবারিক মূল্যবোধের এক টেকসই ও নৈতিক সমন্বয় না ঘটে, তবে এই তথাকথিত 'উন্নয়ন' আসলে এক ফাঁপা কঙ্কাল ছাড়া আর কিছুই নয়।

এই গভীর রূপান্তর ও সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাদেকা হালিম এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট নাহিদ শাহিনের বিশ্লেষণ আমাদের এক মিশ্র সমীকরণের মুখোমুখি দাঁড় করায়। অধ্যাপক সাদেকা হালিমের মতে, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নারীদের নিজস্ব অধিকার, আইন ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করেছে, যার ফলে অনেক মা-বাবা কন্যাসন্তানকে আর বোঝা মনে করেন না।

তিনি আরও বলেন, তবে এখনও প্রান্তিক অঞ্চলে পুরোপুরি আইন না মেনে বাল্যবিবাহ দেয়ার প্রবণতা রয়ে গেছে, যা মেয়েদের শিক্ষা ও কর্মজীবনকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। এই সমস্যা দূর করতে কঠোর শাস্তির চেয়ে স্কুল-কলেজ বা ধর্মীয় উপাসনালয়ে কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে ১৮ থেকে ২১ বছর বয়সের পর বিয়ের সুফল বোঝানো বেশি কার্যকর। অন্যদিকে, তীব্র ক্যারিয়ার সচেতনতার কারণে বিয়ের বয়স বিলম্বিত হওয়া এবং সন্তান ধারণের সময় কমে যাওয়ার বিষয়টিও জটিল।

এই প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট নাহিদ শাহিন মনে করেন, পড়াশোনা শেষ করার সঠিক সময় অনুযায়ী মেয়েদের ২২ বছর এবং ছেলেদের ২৫ বছরের মধ্যে বিয়ে করে ফেলা উচিত, কারণ বিয়ের পরও পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। ৩০-৩৫ বছর বা তার বেশি বয়সে দেরিতে বিয়ে করলে সন্তানরা যখন বড় হয়, ততদিনে মা-বাবার বয়স অনেক বেড়ে যায়। এর ফলে সন্তানরা সাবালক হওয়ার আগেই মা-বাবা মারা গেলে নাবালক সন্তানরা সম্পত্তি বা নিজেদের জীবন বুঝে উঠতে পারে না এবং মা-বাবাও সন্তানের উপার্জনের বা সাফল্যের মুখ দেখে যেতে পারেন না।

এই সামাজিক ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি লাগছে আমাদের চেনা পারিবারিক কাঠামোর ওপর। অ্যাডভোকেট নাহিদ শাহিনের মতে, যৌথ পরিবার আমাদের ঐতিহ্যগত সংস্কৃতি হলেও সমসাময়িক জটিলতা ও বাস্তবতার কারণে তা আর টেকসই হচ্ছে না। এদিকে অধ্যাপক সাদেকা হালিম মনে করিয়ে দেন যে, উন্নত বিশ্বে বিয়ে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয় এবং সেখানে প্রবীণদের সুরক্ষায় রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত ‘প্রবীণ নিবাস’ ও পর্যাপ্ত সামাজিক নিরাপত্তা বলয় থাকলেও বাংলাদেশে তা অত্যন্ত অপ্রতুল।

ক্যারিয়ারের তীব্র প্রতিযোগিতা ও ব্যক্তিগত পছন্দের কারণে দেরি করে বিয়ে করা বা একা থাকার প্রবণতা মুক্ত অর্থনীতিতে একটি বাস্তব চয়েস হতে পারে, কিন্তু তার জন্য মা-বাবার অবহেলা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সন্তানকে গড়ে তুলতে মা-বাবার যে শ্রম ও অবদান, তার প্রতিদান দেয়া সন্তানের নৈতিকতা ও বিবেকের বিষয়।

দিনশেষে আধুনিকতা মানেই অতীতকে ভুলে যাওয়া বা শিকড় ছিঁড়ে ফেলা নয়। বিয়ের বয়স ও সম্পর্কের এই নতুন সমীকরণ আগামী দিনের বাংলাদেশকে তখনই এক পরিপক্ব সামাজিক ওবিয়ের পিঁড়িতে বসার গড় বয়স কত, শুমারির তথ্য কী বলছে?

একসময় এ দেশের গ্রামীণ সমাজে প্রবাদ ছিল–‘কুড়িতেই বুড়ি’। ৯ থেকে ১২ বছরের কন্যাসন্তানকে ছাদনাতলায় পাঠানোই ছিল চেনা সামাজিকতা। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘হৈমন্তী’ গল্পের সেই সতেরো বছরের নায়িকাকে নিয়ে সমাজে যে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছিল, আজ আধুনিক বাংলাদেশের বাস্তবতায় তা কেবলই রূপকথা। বর্তমান তরুণ-তরুণীদের চোখে এখন শুধু বিয়ের সানাই বাজে না, সেখানে ডানা মেলেছে করপোরেট সিঁড়ি ভাঙার স্বপ্ন আর অর্থনৈতিক স্বাধীনতার তীব্র আকাঙ্ক্ষা। নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে, ব্যাংক ব্যালেন্স গুছিয়ে তবেই এখনকার প্রজন্ম বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন।

কিন্তু এই রূপান্তর আমাদের এক সত্যিকারের সভ্যতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে, নাকি কোনো অলক্ষিত সামাজিক সুনামির অন্ধকারে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে–সেই খবর কি আমরা রাখছি? ক্যারিয়ারের এই জৌলুসের যুগে বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরা ঠিক কোন বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন? এই সামাজিক রূপান্তরের আসল চিত্রটি উঠে এসেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সবশেষ শুমারির চূড়ান্ত পরিসংখ্যানে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সবশেষ শুমারির তথ্য অনুযায়ী, দেশের তরুণ-তরুণীদের প্রথম বিয়ের গড় বয়স আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে পুরুষদের প্রথম বিয়ের গড় বয়স এখন দাঁড়িয়েছে ২৫.২৮ বছরে–অর্থাৎ ক্যারিয়ারের শক্ত ভিত্তি গড়তে জীবনের পঁচিশটি বসন্ত পার করে তবেই একজন তরুণ জীবনের সবচেয়ে বড় ‘হ্যাঁ’টি বলছেন।

অন্যদিকে নারীদের ক্ষেত্রে প্রথম বিয়ের গড় বয়স ১৯.২৯ বছর। নারীদের বিয়ের বয়স আগের চেয়ে কিছুটা বাড়লেও, এই দুইয়ের মাঝখানে রয়ে গেছে প্রায় ৬ বছরের এক বিশাল মনস্তাত্ত্বিক ব্যবধান, যা আমাদের ঐতিহ্যগত পারিবারিক কাঠামোরই প্রতিফলন। শুমারির তথ্য আরও বলছে, দেশের ১০ বছর বা তার বেশি বয়সিদের মধ্যে বর্তমানে বিবাহিত ৬৫.০৮ শতাংশ এবং অবিবাহিত বা ‘সিঙ্গেল’ ২৮.৮২ শতাংশ।

আধুনিক জীবনের তীব্র মানসিক ও করপোরেট চাপের কারণে শহরাঞ্চলে ডিভোর্সের গ্রাফ কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হলেও, তা এখনও আমাদের চেনা সমাজকে পুরোপুরি গ্রাস করতে পারেনি।

কিন্তু এখানেই গল্পের শেষ নয়, এখান থেকেই শুরু আসল মনস্তাত্ত্বিক ক্লাইমেক্স। যে মুদ্রার একপিঠে স্বাবলম্বিতা আর আধুনিকতা, তার ওপিঠেই লুকিয়ে আছে এক ভয়ংকর সামাজিক বিপর্যয়। প্রতিষ্ঠার এই অন্ধ ইঁদুরদৌড় আমাদের আদি ও সহজাত পারিবারিক বন্ধনগুলোকে নিঃশব্দে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে।

আজ গণমাধ্যমের পাতা ওল্টালেই দেখা যায়, যে মা-বাবা নিজের রক্ত জল করে সন্তানকে ‘প্রতিষ্ঠিত’ করলেন, সেই সন্তানরা আজ বৃদ্ধ মা-বাবাকে একাকী ফেলে রেখে নিজেদের তথাকথিত ‘ক্যারিয়ারের নেশায়’ মত্ত। করপোরেট লাউঞ্জে বসে যে তরুণ বিশ্বজয়ের ব্লু-প্রিন্ট বানাচ্ছে, ঘরের কোণে তার বৃদ্ধ মা-বাবা হয়তো এক ফোঁটা স্নেহের জন্য চাতকের মতো চেয়ে আছেন–এ যেন এক আধুনিক কুসংস্কার।

নিজের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতিকে অবজ্ঞা করে কখনও প্রকৃত সভ্য সমাজ তৈরি সম্ভব নয়। আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে যদি পারিবারিক মূল্যবোধের এক টেকসই ও নৈতিক সমন্বয় না ঘটে, তবে এই তথাকথিত 'উন্নয়ন' আসলে এক ফাঁপা কঙ্কাল ছাড়া আর কিছুই নয়।

এই গভীর রূপান্তর ও সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাদেকা হালিম এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট নাহিদ শাহিনের বিশ্লেষণ আমাদের এক মিশ্র সমীকরণের মুখোমুখি দাঁড় করায়। অধ্যাপক সাদেকা হালিমের মতে, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নারীদের নিজস্ব অধিকার, আইন ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করেছে, যার ফলে অনেক মা-বাবা কন্যাসন্তানকে আর বোঝা মনে করেন না।

তিনি আরও বলেন, তবে এখনও প্রান্তিক অঞ্চলে পুরোপুরি আইন না মেনে বাল্যবিবাহ দেয়ার প্রবণতা রয়ে গেছে, যা মেয়েদের শিক্ষা ও কর্মজীবনকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। এই সমস্যা দূর করতে কঠোর শাস্তির চেয়ে স্কুল-কলেজ বা ধর্মীয় উপাসনালয়ে কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে ১৮ থেকে ২১ বছর বয়সের পর বিয়ের সুফল বোঝানো বেশি কার্যকর। অন্যদিকে, তীব্র ক্যারিয়ার সচেতনতার কারণে বিয়ের বয়স বিলম্বিত হওয়া এবং সন্তান ধারণের সময় কমে যাওয়ার বিষয়টিও জটিল।

এই প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট নাহিদ শাহিন মনে করেন, পড়াশোনা শেষ করার সঠিক সময় অনুযায়ী মেয়েদের ২২ বছর এবং ছেলেদের ২৫ বছরের মধ্যে বিয়ে করে ফেলা উচিত, কারণ বিয়ের পরও পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। ৩০-৩৫ বছর বা তার বেশি বয়সে দেরিতে বিয়ে করলে সন্তানরা যখন বড় হয়, ততদিনে মা-বাবার বয়স অনেক বেড়ে যায়। এর ফলে সন্তানরা সাবালক হওয়ার আগেই মা-বাবা মারা গেলে নাবালক সন্তানরা সম্পত্তি বা নিজেদের জীবন বুঝে উঠতে পারে না এবং মা-বাবাও সন্তানের উপার্জনের বা সাফল্যের মুখ দেখে যেতে পারেন না।

এই সামাজিক ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি লাগছে আমাদের চেনা পারিবারিক কাঠামোর ওপর। অ্যাডভোকেট নাহিদ শাহিনের মতে, যৌথ পরিবার আমাদের ঐতিহ্যগত সংস্কৃতি হলেও সমসাময়িক জটিলতা ও বাস্তবতার কারণে তা আর টেকসই হচ্ছে না। এদিকে অধ্যাপক সাদেকা হালিম মনে করিয়ে দেন যে, উন্নত বিশ্বে বিয়ে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয় এবং সেখানে প্রবীণদের সুরক্ষায় রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত ‘প্রবীণ নিবাস’ ও পর্যাপ্ত সামাজিক নিরাপত্তা বলয় থাকলেও বাংলাদেশে তা অত্যন্ত অপ্রতুল।

ক্যারিয়ারের তীব্র প্রতিযোগিতা ও ব্যক্তিগত পছন্দের কারণে দেরি করে বিয়ে করা বা একা থাকার প্রবণতা মুক্ত অর্থনীতিতে একটি বাস্তব চয়েস হতে পারে, কিন্তু তার জন্য মা-বাবার অবহেলা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সন্তানকে গড়ে তুলতে মা-বাবার যে শ্রম ও অবদান, তার প্রতিদান দেয়া সন্তানের নৈতিকতা ও বিবেকের বিষয়।

দিনশেষে আধুনিকতা মানেই অতীতকে ভুলে যাওয়া বা শিকড় ছিঁড়ে ফেলা নয়। বিয়ের বয়স ও সম্পর্কের এই নতুন সমীকরণ আগামী দিনের বাংলাদেশকে তখনই এক পরিপক্ব সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তি দিতে পারবে, যখন আমরা ক্যারিয়ারের সাফল্যের পাশাপাশি আমাদের হাজার বছরের চেনা পারিবারিক ঐতিহ্যকে বুক দিয়ে আগলে রাখতে পারব।

ক্যারিয়ার গড়ার জেদ যেমন থাকবে, ঠিক তেমনি সঠিক সময়ে প্রাকৃতিকভাবে পরিবার গঠন এবং মা-বাবার প্রতি আজীবন দায়বদ্ধতা থাকার মানসিকতাও তৈরি করতে হবে। কারণ, শতকোটি টাকার ব্যাংকিং ক্যারিয়ার বা এআই নেটওয়ার্কিংয়ের ঝাঁ-চকচকে জগৎও দিন শেষে ঘরে ফিরে একজন একাকী মানুষের নিঃসঙ্গতা দূর করতে পারে না।

অর্থনৈতিক ভিত্তি দিতে পারবে, যখন আমরা ক্যারিয়ারের সাফল্যের পাশাপাশি আমাদের হাজার বছরের চেনা পারিবারিক ঐতিহ্যকে বুক দিয়ে আগলে রাখতে পারব।

ক্যারিয়ার গড়ার জেদ যেমন থাকবে, ঠিক তেমনি সঠিক সময়ে প্রাকৃতিকভাবে পরিবার গঠন এবং মা-বাবার প্রতি আজীবন দায়বদ্ধতা থাকার মানসিকতাও তৈরি করতে হবে। কারণ, শতকোটি টাকার ব্যাংকিং ক্যারিয়ার বা এআই নেটওয়ার্কিংয়ের ঝাঁ-চকচকে জগৎও দিন শেষে ঘরে ফিরে একজন একাকী মানুষের নিঃসঙ্গতা দূর করতে পারে না।

এএস/

ট্যাগ:#বিয়ের পিঁড়িতে বসার গড় বয়স কত#শুমারির তথ্য কী বলছে?#

মন্তব্য করুন

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

Published১৭ জুন, ২০২৬

সর্বশেষ সংবাদসমূহ

খবর পাঠান

আপনার এলাকার সংবাদ আমাদের পাঠান

এখনই পাঠান