জাতীয়

বিশ্বকাপের নকআউটে ২৪ বছরের খরা কাটল ব্রাজিলের

স্পোর্টস ডেস্ক ২৯ জুন, ২০২৬ এ ০৯:২৪ PM ২৫২৫২৯ জুন, ২০২৬
শেয়ার:
বিশ্বকাপের নকআউটে ২৪ বছরের খরা কাটল ব্রাজিলের

বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে হিউস্টনে শুধু শেষ ষোলোর টিকিটই কাটেনি ব্রাজিল, একই সঙ্গে অবসান ঘটিয়েছে দীর্ঘ ২৪ বছরের এক লজ্জাজনক খরার। জাপানের বিপক্ষে প্রথমে গোল হজম করেও দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে সেলেসাওরা।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথমে পিছিয়ে পড়ে ম্যাচ জেতার জন্য ব্রাজিলকে অপেক্ষা করতে হলো দীর্ঘ ২৪ বছর ৮ দিন!

ম্যাচের ২৯ মিনিটে জাপানি মিডফিল্ডার কাইশু সানোর এক দুর্দান্ত একক দৌড়ে করা গোলে স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল ব্রাজিল শিবির। তবে দ্বিতীয়ার্ধের ১১ মিনিটে (৫৬ মিনিটে) গাব্রিয়েল মাগালাইয়েসের ক্রস থেকে অভিজ্ঞ কাসেমিরোর বুলেট হেডে সমতায় ফেরে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

আর ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে (যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে) ব্রুনো গিমারেসের পাস থেকে গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির চমৎকার কোণাকুণি শট জাপানকে স্তব্ধ করে ব্রাজিলের জয় নিশ্চিত করে।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ব্রাজিলের সর্বশেষ এমন 'কামব্যাক' বা পিছিয়ে পড়ে জিতে ফেরার ঘটনা ঘটেছিল ২০০২ সাল, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই বিখ্যাত কোয়ার্টার ফাইনালে।

সেদিন মাইকেল ওয়েনের গোলে ইংল্যান্ড প্রথমে এগিয়ে গেলেও রিভালদোর সমতা এবং রোনালদিনহোর সেই জাদুকরী ফ্রি-কিকের গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল লুইজ ফেলিপে স্কোলারির শিষ্যরা; যা শেষ পর্যন্ত তাদের পঞ্চম বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিল।

এরপর গত পাঁচটি আসরে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথমে গোল খাওয়ার পর আর কখনোই ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ব্রাজিল।

২০০৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে ১-০ গোলে হার, ২০১৪ সালের সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে সেই ঐতিহাসিক ৭-১ বিপর্যয় এবং ২০১৮ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল প্রথমে পিছিয়ে পড়েই। (উল্লেখ্য, ২০১০ সালে নেদারল্যান্ডস এবং ২০২২ সালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে বিদায়ের ম্যাচগুলোতে ব্রাজিলই প্রথমে গোল করেছিল)।

জাপানের বিপক্ষে এই জয়টিসহ বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রতিপক্ষ প্রথমে গোল করার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচ জেতার নজির ব্রাজিল গড়ল মোট ১৫ বার। এর মধ্যে প্রথম রাউন্ড বা গ্রুপ পর্বের পরের ম্যাচগুলোতে (নকআউট পর্বে) এটি ব্রাজিলের অষ্টম কামব্যাক (যার মধ্যে ১৯৩৮ সালের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটিও অন্তর্ভুক্ত)।

ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে এই ১৫টি কামব্যাকের মধ্যে দুটি এসেছিল সরাসরি ফাইনালের মঞ্চে, যা তাদের এনে দিয়েছিল বিশ্বখেতাব। ১৯৫৮ সালের ফাইনালে সুইডেন প্রথমে গোল করলেও পেলে, ভাভা ও জাগালোর গোলে ৫-২ ব্যবধানে জিতেছিল ব্রাজিল। চার বছর পর, ১৯৬২ সালের ফাইনালে চেকোস্লোভাকিয়া প্রথমে লিড নিলেও অমরিলদো, জিতো এবং ভাভার গোলে ৩-১ ব্যবধানে জিতে নিজেদের দ্বিতীয় শিরোপা নিশ্চিত করেছিল সেলেসাওরা।

এএস/

মন্তব্য করুন

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

Published২৯ জুন, ২০২৬

সর্বশেষ সংবাদসমূহ

খবর পাঠান

আপনার এলাকার সংবাদ আমাদের পাঠান

এখনই পাঠান