সারা দেশ রংপুর

ব্রহ্মপুত্রের তীব্র ভাঙন: এক রাতেই গৃহহীন ২৫ পরিবার, বন্যার শঙ্কা

হাবিবুর রহমান, চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ২৯ জুন, ২০২৬ এ ০৭:১২ PM ৮০৭৯২৯ জুন, ২০২৬
শেয়ার:
ব্রহ্মপুত্রের তীব্র ভাঙন: এক রাতেই গৃহহীন ২৫ পরিবার, বন্যার শঙ্কা

মুহূর্তের মধ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্পটিতে বসবাসরত ১৬০টি পরিবারের মধ্যে ২৫টি পরিবারের ঘর-বাড়ি ও ভিটেমাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। রাতের আঁধারে আকস্মিক এই বিপর্যয়ে কোনো প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও, পরিবারগুলো তাদের সর্বস্ব হারিয়ে বিশাল ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে।

হঠাৎ অতিবৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের মুখে পড়ে এক রাতেই নিজেদের বাড়ি-ভিটা হারিয়েছেন চিলমারী ইউনিয়নের কড়াই বরিশাল এলাকার "বিশার পাড়ার চরের আশ্রয়ণ কেন্দ্রের" ২৫টি পরিবার।

বর্তমানে চরম আতঙ্ক ও খোলা আকাশের নিচে দিন কাটছে চরের বাসিন্দাদের। এর পাশাপাশি নদের পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় চিলমারীতে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা করছে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (২৯ জুন) গভীর রাত আড়াইটার দিকে ব্রহ্মপুত্র নদের প্রবল স্রোতে হঠাৎ করেই বিশার পাড়া চরে তীব্র ভাঙন শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্পটিতে বসবাসরত ১৬০টি পরিবারের মধ্যে ২৫টি পরিবারের ঘর-বাড়ি ও ভিটেমাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। রাতের আঁধারে আকস্মিক এই বিপর্যয়ে কোনো প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও, পরিবারগুলো তাদের সর্বস্ব হারিয়ে বিশাল ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। ঘর-বাড়ি হারিয়ে অসহায় মানুষগুলো এখন পরিবার-পরিজন, গবাদি পশু ও আসবাবপত্র নিয়ে খোলা আকাশের নিচে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ভাঙন আতঙ্কে এখনো অনেকে ঘর-বাড়ি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে ব্যস্ত রয়েছেন।

ভাঙনের শিকার হওয়া স্থানীয় বাসিন্দা আঃ আজিদ, আজম, আলম, মতিয়ার, নজরুল, হামিদ, লাল মিয়া, মোকলেছুর, শাহীন, আঃ রহিম, বক্কর, রসিদ, রুবিনা ও মনছুর তীব্র ক্ষোভ ও আর্তনাদ প্রকাশ করে বলেন, নদের স্রোতে চোখের পলকে সব শেষ হয়ে গেছে। তারা অবিলম্বে ঘর-বাড়ি নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরসহ জরুরি খাদ্য সামগ্রী, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও অন্যান্য পুনর্বাসন সহায়তার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন এনজিওর কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল কাজী বলেন, "হঠাৎ নদের ভাঙন এতটাই তীব্র রূপ নেয় যে, দুর্গত মানুষজন তাদের ঘরের জিনিসপত্র সরানোর মতো পর্যাপ্ত সময়টুকুও পায়নি। মুহূর্তের মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই।"

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান জানান, স্থানীয়দের সহায়তায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। সোমবার গৃহহীনদের মাঝে জরুরি ভিত্তিতে কিছু ত্রাণ বা রিলিফ বিতরণ করা হলেও, তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশ কম ছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত আরও সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এদিকে, চরের বাসিন্দারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ব্রহ্মপুত্র নদের এই ভয়াবহ ভাঙন প্রতিরোধে এখনই যদি পানি উন্নয়ন বোর্ড বা প্রশাসন থেকে কোনো জরুরি ও স্থায়ী পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে চরাঞ্চলের শত শত একর ফসলি জমি এবং হাজার হাজার ঘর-বাড়ি চিরতরে নদের বুকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। সেই সাথে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পুরো চিলমারী উপজেলা জুড়ে বন্যা পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের ব্যাপক প্রস্তুতির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এএস/

মন্তব্য করুন

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

Published২৯ জুন, ২০২৬

সর্বশেষ সংবাদসমূহ

খবর পাঠান

আপনার এলাকার সংবাদ আমাদের পাঠান

এখনই পাঠান