‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়’ সভাপতি তামিম: প্রত্যাশিত উত্তাপহীন বিসিবি নির্বাচন

শেষ হলো উত্তাপহীন প্রত্যাশিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন! আগেই অনুমেয় ছিল এই নির্বাচনের ফলাফল কি হতে পারে? অনুমানই সত্যি হলো। গতকাল মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামস্থ বিসিবি কার্যালয়ে ভোটগ্রহণ শেষে ৭৬টির মধ্যে সর্বোচ্চ ৭৩ ভোট পেয়ে বিসিবির নতুন পরিচালক নির্বাচিত হন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। পরে ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়’ বিসিবির নির্বাচিত সভাপতিও হন তামিম।
পরিচালক পদে নির্বাচনের পরপরই নির্বাচিত পরিচালকদের মধ্য থেকে সভাপতি নির্বাচন করা হয়। যেখানে তামিম ইকবালের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন না আর কেউ। যার ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতাতেই সভাপতি নির্বাচিত হয়ে যান তামিম। এতদিন তিনি ছিলেন বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি। এবার বিশেষণ ঝড়ে পড়লো তার নামের পাশ থেকে। এখন থেকে তামিম ইকবাল বিসিবির নির্বাচিত সভাপতি। বিসিবির গঠনতন্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী তিন ক্যাটাগরিতে মোট ২৩ জন পরিচালক নির্বাচিত হন। বাকি ২ জন মনোনীত হয়ে আসেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) থেকে। মোট ২৫ পরিচালকের মধ্যে আবার সভাপতি পদে নির্বাচন করতে হয়। এখানে যিনি সর্বোচ্চ ভোট পান, তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। কাল বিসিবি কার্যালয়ে ভোট অনুষ্ঠিত হয় দুই ক্যাটাগরিতে।
ক্লাবের ১২ পরিচালক ও বিভাগীয় পর্যায়ে বরিশাল এবং খুলনার দুই পদে নির্বাচন হয়। ক্লাবের ১২ পরিচালক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ১৬ জন। ৭৬ ভোটের মধ্যে তামিম সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে পরিচালক নির্বাচিত হলেও হেরে যান সৈয়দ বোরহানুল হোসেন পাপ্পু, আমজাদ হোসেন, ফয়েজুর রহমান মিতু ও মেজর ইমরোজ আহমেদ। জানা গেছে, দুই সহ-সভাপতির একজন হচ্ছেন, ফাহিম সিনহা। সভাপতি নির্বাচনের আগে চমক হয়ে আসে এনএসসির দুই পরিচালক মনোনয়ন। অচেনা দুই মুখ সরফরাজ আহমেদ ও রুহুল আমিনকে এনএসসি কোটায় পরিচালক মনোনয়ন দেয়া হয়।
এর আগে উৎসবমুখর পরিবেশে কাল সকাল ১০টায় বিসিবি কার্যালয়ের বোর্ড রুমে শুরু হয় ভোটগ্রহণ। চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরে ফল গণণা শেষ হয় সন্ধ্যায় ৬ টায়। প্রাপ্ত ভোটে ঢাকার ক্লাব থেকে জিতেছেন তামিম ইকবাল, মাসুদুজ্জামান, রফিকুল ইসলাম বাবু, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, ইসরাফিল খসরু, সাঈদ ইব্রাহিম, শাহনিয়ান তানিম, ফাহিম সিনহা, ইয়াসির ফয়সাল, আসিফ রাব্বানি, ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ ও সাকিফ আহমেদ সালাম।
ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে লড়াই করেন ১৬ জন। পরিচালক নির্বাচিত হন ১২ জন। তামিমের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭২টি করে ভোট পান ফেয়ার ফাইটার্স স্পোর্টিং ক্লাবের কাউন্সিলর সাঈদ ইব্রাহীম আহমেদ ও এক্সিউম ক্রিকেটার্সের কাউন্সিলর ইসরাফিল খসরু। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের কাউন্সিলর মাসুদুজ্জামান পেয়েছেন ৭০ ভোট। সমান ৬৮ ভোট পান শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের আসিফ রব্বানী ও ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাবের কাউন্সিলর (বসুন্ধরা রাইডার্স) ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক।
এছাড়া ঢাকা মেরিনার ইয়াংস ক্লাবের কাউন্সিলর শানিয়ান তানিম ও ঢাকা আবাহনী লিমিটেডের কাউন্সিলর ফাহিম সিনহা দু’জনে পেয়েছেন সমান ৬৬টি ভোট। ৬৫ ভোট পেয়েছেন পূর্বাচল স্পোর্টিং ক্লাবের সাকিফ সালাম। আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবের মির্জা ইয়াসির আব্বাস পান ৬৩টি ভোট। ৫৩ পেয়েছেন ইন্দিরা রোড ক্রীড়া চক্রের কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম বাবু ও ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম পান ৪১ ভোট। হেরে যাওয়া চার প্রার্থী তেজগাঁও ক্রিকেট একাডেমির কাউন্সিলর বোরহানুল পাপ্পু পেয়েছেন ৪০ ভোট, ট্রাই স্টেট ক্রিকেটার্সের আমজাদ হোসেন ৩২, উত্তরা ক্রিকেট ক্লাবের ফয়জুর মিতু ২৩ ও কাঁঠালবাগান গ্রীন ক্রিসেন্ট ক্লাবের মেজর ইমরোজ আহমেদ পান ২০টি ভোট। ক্লাব ক্যাটাগরির ৭৬ ভোটের মধ্যে ৭৪টি ভোট কাস্ট হয়।
এছাড়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন আট পরিচালক। ক্যাটাগারি-১ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত পরিচালক সাতজন এবং ক্যাটাগরি-৩ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত প্রতিনিধি একজন সিরাজউদ্দিন মো. আলমগীর। ক্লাব ক্যাটাগরিতে ঢাকা বিভাগ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত পরিচালক সাঈদ বিন জামান এবং এস এম আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদোয়ান। চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত পরিচালক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও মঈন উদ্দীন চৌধুরী কামরুল। সিলেট বিভাগের পরিচালক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, রাজশাহী বিভাগের শাকরুল আলম সীমান্ত ও রংপুর বিভাগের পরিচালক মির্জা ফয়সাল আমীন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
এএস/
মন্তব্য করুন
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!