বালু লুটের পাঁয়তারা: এক নদী দেখিয়ে অন্য নদীর ইজারা, আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

পটুয়াখালীর বাউফলে তীব্র ভাঙনকবলিত তেঁতুলিয়া নদীকে 'বুড়াগৌরাঙ্গ' নদ দেখিয়ে বালুমহাল ইজারা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসন বগা লঞ্চঘাট থেকে কারখানা লঞ্চঘাট এবং নাজিরপুর ইউনিয়নের নিমদী লঞ্চঘাট এলাকায় বালুমহাল ইজারার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ ও ভাঙন আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এক নদী দেখিয়ে অন্য নদীর ইজারার বিস্তারিত তথ্য: বাউফলের চন্দ্রদ্বীপ, নাজিরপুর, ধানদী, নিমদী, কচুয়া ও ধুলিয়া এলাকা দীর্ঘদিন ধরে তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে।
ভাঙনের কারণে এসব এলাকায় বালুমহাল ইজারা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী বুড়াগৌরাঙ্গ নদের অবস্থান সম্পূর্ণ আলাদা হওয়া সত্ত্বেও, স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের স্বার্থ রক্ষার্থে তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন পয়েন্টকে বুড়াগৌরাঙ্গ দেখিয়ে বালুমহাল ইজারার পাঁয়তারা চলছে। নদী থেকে বালু তোলা হলে ভাঙন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে বলে সতর্ক করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
উপজেলা ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলা বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ২১ মে বুড়াগৌরাঙ্গ নদের বালুমহাল ইজারার জন্য প্রকাশ্য ডাকের সিদ্ধান্ত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাউফলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সোহাগ মিলুর সই করা এক চিঠিতে আগামী ১১ জুন নিমদী লঞ্চঘাট এলাকায় ইজারার উন্মুক্ত ডাকের দিন ধার্য করা হয়েছে।
সরকারি জাতীয় তথ্য বাতায়নের তথ্য অনুযায়ী, পটুয়াখালী জেলার নদ-নদীর তালিকায় ২০ নম্বরে থাকা ৪৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘বুড়াগৌরাঙ্গ’ নদের অবস্থান মূলত দশমিনা, গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী উপজেলায়। বাউফলে এই নদের কোনো অস্তিত্বই নেই।
ইতোমধ্যে তেঁতুলিয়া নদীর ধারাবাহিক ভাঙনে বাউফলের চন্দ্রদ্বীপ, নাজিরপুর, তাঁতেরকাঠি ও কাছিপাড়া ইউনিয়নের বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী মহল বুড়াগৌরাঙ্গ নদের নাম ব্যবহার করে মূলত তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা থেকে বালু লুটের ষড়যন্ত্র করছে।
পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হোসেন জানান, নাজিরপুর, চন্দ্রদ্বীপসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রতিবছর জিও ব্যাগ ফেলেও ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে নদী থেকে বালু তোলা হলে ভাঙনের গতি দ্বিগুণ হবে।
ভাঙনে জমিজমা হারানো নাজিরপুরের বাসিন্দা মো. ইউনুস চৌধুরী ও চন্দ্রদ্বীপের আবুল রাঢ়ি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বছরের পর বছর ধরে তারা টেকসই বেড়িবাঁধের দাবি জানিয়ে আসছেন। তা না করে উল্টো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে বালু তোলার পাঁয়তারা চলছে, যা তাদের ভিটেমাটিও নদীতে বিলীন করে দেবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য এক বাসিন্দা জানান, এই অবৈধ ইজারা প্রক্রিয়া বন্ধ না হলে প্রয়োজনে উপজেলা কার্যালয় ঘেরাও করা হবে।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সোহাগ মিলু নিজের দায় অস্বীকার করে বলেন, জেলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নোটিশ দেওয়া হয়েছে, এখানে আমার কোনো ব্যক্তিগত দায় নেই। অন্যদিকে, বাউফলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ জানান, স্থানীয়দের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া তাঁর নজরে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং শিগগিরই একটি জনকল্যাণমুখী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
এএস/
মন্তব্য করুন
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!