অর্থ বিল-২০২৬ পাস: বাড়ল করমুক্ত আয়সীমা, ব্যাংক হিসাবে টিআইএন বাধ্যতামূলক নয়

জাতীয় সংসদে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীসহ ‘অর্থ বিল-২০২৬’ পাস হয়েছে। সংশোধনীগুলোর মধ্যে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি, ব্যাংক হিসাব খোলায় টিআইএন (TIN) বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার এবং বেশ কিছু খাতে শুল্ক ও ভ্যাট কমানোর প্রস্তাব উল্লেখযোগ্য। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। বাজেট আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে জনস্বার্থে এসব সংশোধনী আনা হয়েছে।
নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, আগামী পাঁচ অর্থবছরের জন্য ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়েছে। ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লাখ টাকা, ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে মূল বাজেটে এই সীমা যথাক্রমে ৩ লাখ ৭৫ হাজার, ৪ লাখ এবং ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছিল। এছাড়া, জমি নিবন্ধনে প্রস্তাবিত বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশ-সংক্রান্ত বিধানটি জনমনে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ সৃষ্টির কারণে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
জনসাধারণের সুবিধার্থে সাধারণ ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন সনদ প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বণ্টন দলিল (পার্টিশান ডিড) ও নামজারি (মিউটেশন) নিবন্ধনের জন্যও টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করা হয়। উচ্চশিক্ষার খরচ কমাতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়কর হার বিদ্যমান ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া পার্বত্য তিন জেলা ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ব্যবসা, কৃষি ও চাকরিজনিত আয়কে করমুক্ত সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।
ব্যবসায়িক ও শিল্প খাতে গতি ফেরাতে বেশ কিছু শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে। চিংড়ি শিল্পের সুরক্ষায় খাদ্য, ভিটামিন, খনিজ ও যন্ত্রপাতি আমদানির ভ্যাট এবং শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। দেশীয় ওষুধ ও শিল্পে ব্যবহৃত মধুর ওপর থেকে ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং শিল্পে ব্যবহৃত পিভিসি ও পিইটি রেজিনের আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাত শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে এবং এলইডি বাতি ও প্রিফ্যাব্রিকেটেড ভবনের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক-সুবিধার মেয়াদ ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে বৈধ চ্যানেলের ব্যবহার বাড়াতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওটিটি ও সার্চ ইঞ্জিনে বিজ্ঞাপনের ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। গহনা শিল্পে সোনা, প্লাটিনাম ও হীরার ভ্যাট ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং রুপার গহনায় ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মাছ সরবরাহ এবং বিটিআরসির রাজস্ব ভাগাভাগিতে পূর্ণ ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দেশীয় মোটরগাড়ি শিল্পকে উৎসাহিত করতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ডাবল কেবিন পিকআপ ও মাইক্রোবাসের ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।
এএস/
মন্তব্য করুন
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!