আদিতমারীতে শিশু হত্যা: সংঘর্ষের পর আতঙ্কে পুরুষশূন্য গ্রাম

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর নন্দিনী রায় (৭) নামে এক ব্র্যাক স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এলাকা।
উত্তেজিত জনতার হামলায় জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়েছে। সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হককে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুন উপজেলার ফলিমারী গ্রামের নলিনী কুমার রায়ের শিশু কন্যা নন্দিনী নিখোঁজ হয়। পরদিন ১৬ জুন সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টা ক্ষেতের গর্ত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে ৩ জনের নাম উল্লেখ করে আদিতমারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন— বিধান চন্দ্র রায় (২৮), তার পিতা রঞ্জিত কুমার রায় (৪২) এবং মাতা মমতা রানী রায় (৩৭)। ঘটনার পরপরই প্রধান আসামি বিধান ও তার পিতা রঞ্জিতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ডিসি-এসপির গাড়ি ভাঙচুর ও রণক্ষেত্র:
শিশু হত্যার খবর পেয়ে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বিজিবি অধিনায়ক এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উত্তেজিত জনতা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর চড়াও হয় এবং ডিসি, এসপিসহ পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স এসে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
ওসি প্রত্যাহার ও গ্রামে গ্রেফতার আতঙ্ক:
পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং তদন্তের স্বার্থে আদিতমারী থানার ওসি মো. নাজমুল হককে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। লালমনিরহাট জেলা পুলিশ সুপার জানান, তদন্তের স্বার্থেই ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এদিকে, সরকারি গাড়ি ভাঙচুর ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনার পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে ১৭ জুন সন্ধ্যার পর থেকে ফলিমারী গ্রামটি সম্পূর্ণ পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতরা আত্মগোপনে চলে গেছেন। পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি, তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ত্রাণ মন্ত্রীর পরিদর্শণ:
১৭ জুন সকালে নিহত নন্দিনী রায়ের বাড়িতে পরিদর্শনে আসেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু এমপি। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দেন এবং পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, "শিশু হত্যাকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।"
এএস/
মন্তব্য করুন
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!