আদালতে মামলা চলমান থাকলেও বদরগঞ্জে জোরপূর্বক শালগাছ কাটার অভিযোগ

রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধে আদালতে মামলা চলমান থাকার পরেও পৈত্রিক জমির গাছপালা কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিবাদী পক্ষের বিরুদ্ধে। এমনকি সরকারি নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে মূল্যবান ‘শালগাছ’ কেটে সাবাড় করা হয়েছে বলে জানা গেছে। উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের খাগড়াবন্দ শাহপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের মৃত জমি তুল্লা শাহর সর্বকনিষ্ঠ সন্তান আব্দুল আজিজ শাহকে তার বড় ভাই ও বোনেরা পৈত্রিক জমির ন্যায্য ভাগ না দেওয়ায় ২০১৬ সালে রংপুর আদালতে একটি দেওয়ানি (সিভিল) মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। কিন্তু বিবাদী শহিদুল হক শাহ ও তার ছেলে সাইফুল ইসলাম শাহ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এবং পেশীশক্তি খাটিয়ে ওই জমিতে থাকা বিভিন্ন জাতের গাছসহ মূল্যবান শালগাছ কেটে ফেলেন।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী ও বন আইন অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের এভাবে শালগাছ কাটার বৈধতা নেই। এর জন্য স্থানীয় প্রশাসন বা বন বিভাগের কোনো অনুমতিও নেওয়া হয়নি। বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান জানান, "গাছ কাটার বিষয়ে সাইফুল বা তার পরিবার ইউনিয়ন পরিষদকে কিছুই জানায়নি এবং কোনো অনুমতিও নেয়নি।" লোহানীপাড়া বন বিট কর্মকর্তা মোহাম্মদ মজিবুর রহমানও বিষয়টি জানেন না বলে জানান।
এ বিষয়ে রংপুর জেলা বন কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, "শালগাছ কাটতে হলে বিভাগীয় বন কার্যালয়ে আবেদন করতে হয়। সরেজমিন তদন্তে সরকারি স্বার্থ না থাকলে এবং পৈত্রিক সম্পত্তি হলে সরকারি ফি জমা দিয়ে গাছ কাটার অনুমতি মেলে। বিধি অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
ভুক্তভোগী বাদী আব্দুল আজিজ শাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সাইফুল ইসলাম ও গাছ ব্যবসায়ী সাইদুল হক অবৈধভাবে গাছগুলো কেটেছেন। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার ও কঠিন শাস্তি দাবি করছি।"
বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আঞ্জুমান সুলতানা বলেন, "বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য বন বিট কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সরেজমিন তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
এএস/
মন্তব্য করুন
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!