২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা নরওয়ের বিচিত্র প্রস্তুতি

দীর্ঘ ২৮ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্ব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে ফিরছে নরওয়ে। ১৯৯৮ সালের পর টানা ছয়টি বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হওয়ার পর অবশেষে আর্লিং হাল্যান্ড ও মার্টিন ওডেগার্ডদের হাত ধরে আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নিতে চলেছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি।
টুর্নামেন্ট শুরু হতে আর মাত্র দুই দিন বাকি থাকতে নরওয়ে দল ইতোমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছে। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই এক বিচিত্র কারণে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে তারা। খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও খাদ্যাভ্যাসের বিষয়টি মাথায় রেখে নরওয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট তাদের সাথে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী উড়িয়ে নিয়ে এসেছে।
আমেরিকার স্থানীয় খাবারের ওপর শতভাগ ভরসা না করে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী ও পুষ্টিকর খাবারের ওপরই আস্থা রাখছে নরওয়েজিয়ানরা। তাদের এই অদ্ভুত রসদের তালিকায় রয়েছে ৩০০ কেজি তাজা লাল মাছ এবং ১১৬ কেজি বিখ্যাত নরওয়েজিয়ান ব্রাউন চিজ। মূলত মেগা টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং বিদেশের মাটিতেও পরিচিত স্বাদের খাবার বজায় রাখাই এই বিশাল আয়োজনের প্রধান উদ্দেশ্য। ফুটবলারদের ডায়েট চার্টকে নিখুঁত রাখতে নরওয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট এই নজিরবিহীন ও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করেছে।
খেলোয়াড়দের জন্য মানসম্মত খাবার তৈরির লক্ষ্যে দলের সাথে আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছেন নরওয়ের দুই প্রখ্যাত রন্ধনশিল্পী অ্যারন এসপেল্যান্ড ও এইরিক তুফতে। শেফ অ্যারন এর আগে ২০২০ সালের অলিম্পিকেও নরওয়ে দলের খাবারের দায়িত্বে ছিলেন। এই দুই অভিজ্ঞ শেফ দলের দীর্ঘদিনের প্রধান শেফের সঙ্গে মিলে হাল্যান্ড ও ওডেগার্ডদের শারীরিক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে একটি বিশেষ পুষ্টিকর খাদ্যতালিকা তৈরি করছেন। তাঁরা মনে করেন, সঠিক ডায়েটই পারে মাঠের লড়াইয়ে খেলোয়াড়দের ক্লান্তিহীন পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতে।
নরওয়ে থেকে সুদূর আমেরিকায় প্রায় আধ টন মাছ ও অন্যান্য খাবার পরিবহন করা ছিল এক বিশাল বড় চ্যালেঞ্জ। এ প্রসঙ্গে শেফ অ্যারন এসপেল্যান্ড জানান যে, খাঁটি নরওয়েজিয়ান উপাদানের গুণগত মানের ওপর তাদের অবিচল বিশ্বাসের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি গর্বের সঙ্গে বলেন যে, খাবারে ব্যবহৃত প্রতিটি উপকরণের উৎস, এমনকি কোন কৃষক সেটি চাষ করেছেন কিংবা কোন জেলে মাছটি ধরেছেন—সে সম্পর্কেও তাঁরা নিশ্চিত থাকতে চান। বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসরে দেশের সেরা উপকরণ দিয়ে ফুটবলারদের সেবা করতে পারাটা তাঁদের কাছে এক বড় প্রাপ্তি।
নরওয়ের এমন নিখুঁত ও পেশাদার প্রস্তুতি ফুটবল মহলে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, ডায়েটের প্রতি এই গভীর মনোযোগ খেলোয়াড়দের মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ সহায়ক হবে। আর্লিং হাল্যান্ডের মতো গোলমেশিন এবং ওডেগার্ডের মতো মাঝমাঠের কারিগরদের কাছ থেকে সেরাটা আদায় করে নিতেই এই সুশৃঙ্খল পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফিরে নরওয়ে কেবল তাদের ফুটবল দিয়েই নয়, বরং তাদের জীবনযাত্রা ও উন্নত ব্যবস্থাপনা দিয়েও বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিতে প্রস্তুত।
এএস/
মন্তব্য করুন
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!